গণবিক্ষোভে উত্তাল ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে কি এবার কট্টরপন্থী ইসলামী শাসনের অবসান হবে? সরকারি দমন-পীড়নে ক্রমশ হিংসাত্মক হয়ে ওঠা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে দিল্লি। ইরানে থাকা ভারতীয়দের সতর্ক করা হচ্ছে। সোমবার রাতে এমনটাই জানালেন ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিসরি।
ক্রমশ ইরান নিয়ে কূটনৈতিক অস্বস্তি বাড়ছে দিল্লির। একদিকে শুল্কযুদ্ধে আমেরিকার সঙ্গে অম্লমধুর সম্পর্ক, অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক 'বন্ধুত্বে'র সম্পর্ক ভারতের। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যেভাবে বিক্ষোভকারীদের উপর দমননীতি চালাচ্ছে ইরান, তার ভিত্তিতে সেখানে মার্কিন হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। পালটা হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। তারা জানিয়েছে, ইরানে হামলা হলে ইজরায়েল এবং পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার সামরিক কেন্দ্রগুলিতে ‘নিশানা’ করা হবে। এই অবস্থায় ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিসরি বুঝিয়ে দিলেন, আপাতত ধীরে চলো নীতিতে বিশ্বাসী দিল্লি। তবে ইরান প্রবাসী ভারতীয়দের নিয়ে চিন্তিত দেশ।
ভারতের বিদেশসচিবের কথায়, ‘‘ইরানে অনেক ভারতীয় থাকেন, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার জন্য গিয়েছেন। ইরানে আমাদের দূতাবাস সেখানে থাকা ভারতীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছে। তাঁরা নিরাপদে আছেন। এখনও পর্যন্ত তাঁরা কোনও সমস্যার সম্মুখীন হননি।’’ তবে বর্তমান অবস্থায় ইরানের থাকা ভারতীয়দের সতর্ক করে মিসরির পরামর্শ, ‘‘অযথা বাইরে বার হবেন না। যে কোনও অশান্তি থেকে দূরে থাকুন।’’
সোমবার পর্যন্ত ইরানে ৫৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলবন্দি করা হয়েছে ১০,৬০০ জন বিদ্রোহীকে।
প্রসঙ্গত, ইরানে মূল্যবৃদ্ধ, স্বাস্থ্য-শিক্ষা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ব্যর্থতা, কট্টরপন্থী ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক বিদ্রোহ শুর হয়েছে। অভিযোগ, বিক্ষোভ রুখতে হিংসাত্মক দমন-পীড়ন চালাচ্ছে সরকারি নিরাপত্তা বাহিনী। সোমবার পর্যন্ত ইরানে ৫৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলবন্দি করা হয়েছে ১০,৬০০ জন বিদ্রোহীকে।
মঙ্গলবার ভারতের অস্বস্তি আরও বেড়েছে। কারণ ইরানের বাণিজ্যিক সঙ্গীদের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। উল্লেখ্য, তেহরানের অন্যতম বাণিজ্যিক সঙ্গী হল দিল্লি। এখন প্রশ্ন হল, তেহরানের বাণিজ্যিক সঙ্গী হওয়ার 'অপরাধে' ভারতের উপরেও কি এবার মার্কিন শুল্ক বেড়ে ৭৫ শতাংশ হয়ে যাবে?
