সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। এরপর মার্কিন বাহিনী বন্দি করে তুলে নিয়ে গিয়েছে সস্ত্রীক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে। একে একে 'আমেরিকার দাদাগিরি'র বিরুদ্ধে গর্জে উঠছে প্রতি়বেশী লাতিন আমেরিকান দেশগুলি। বলিভিয়ার পর মুখ খুলেছে ব্রাজিল, কলম্বিয়া, মেক্সিকোর, চিলি, কিউবাও। সকলেই 'মার্কিন আগ্রাসনে'র নিন্দায় সরব হয়েছে।
মার্কিন হামলার নিন্দা করে শুরুতেই মুখে খুলেছেন বলিভিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস। তিনি বলেন, "আমরা ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বোমা হামলার তীব্র নিন্দা করছি। এটি একটি নৃশংস সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন যা সার্বভৌমত্বকে লঙ্ঘন করে।" এই বিষয়ে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর মন্তব্য, লাতিন আমেরিকার সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত। এতে মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে। দ্রুত নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের আহ্বান জানান তিনি।
কিউবা ভেনেজুয়ালার দীর্ঘদিনের বন্ধু। এই বিষয়ে কিউবার বক্তব্য,‘সাহসী ভেনেজুয়েলান জনগণের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’। শান্তি প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া সক্রিয়তা চেয়েছে তারা। চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাবরিয়েল বোরিক মার্কিন হামলার নিন্দা করে সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান চেয়েছেন। মেক্সিকোর বামপন্থী সরকার ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, সামরিক পদক্ষেপ "আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে বিপন্ন করে।"
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার নিন্দা করেছে রাশিয়া। এক বিবৃতিতে মস্কো জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ‘সশস্ত্র আগ্রাসন’-এর কোনও গ্রহণযোগ্য অজুহাত নেই। আদর্শগত শত্রুতা কূটনীতিকে ছাপিয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি জার্মানি, স্পেন, ইতালির মতো ইউরোপের দেশগুলি ঘটনাপ্রবাহের দিকে নজর রাখছে বলে জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে তারা।
উল্লেখ্য, বরাবরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অপছন্দের তালিকায় শীর্ষে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট। দীর্ঘ দিন ধরে সামরিক উত্তেজনা চলছে দুই দেশের। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে সেনা মোতায়েন করেছে আমেরিকা। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অভিযোগ করেছেন তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ শুরু করেছে আমেরিকা। ট্রাম্পের দিকে আঙুল তুলে তাঁর অভিযোগ, “মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে দেশের শাসন ব্যবস্থা বদলের চেষ্টা করছে আমেরিকা।” এই পরিস্থিতিতে নতুন বছরের শুরুতেই আক্রান্ত ভেনেজুয়েলা।
প্রসঙ্গত, গত মাসে ভেনেজুয়েলা এবং তার আশেপাশের অঞ্চলের আকাশসীমা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলায় তেল ট্যাঙ্কার চলাচলে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আসলে বিশ্বের বৃহত্তম খনিজ তেলের ভাণ্ডার হল ভেনিজুয়েলা। দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে দৈনিক প্রায় ১০ লক্ষ ব্যারেল তেল উৎপাদিত হয়। কিন্তু সাম্প্রতিককালে চিন এবং রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে মাদুরো সরকারের। তাতেই অস্বস্তি বেড়েছে ট্রাম্পের। এর মধ্যেই কয়েকদিন আগে ভেনেজুয়েলার এক বন্দরে আমেরিকা হামলা চালিয়েছিল বলে দাবি সিএনএন-এর। অভিযোগ করা হয়েছিল, যে ওই বন্দর থেকে মাদক পাচার করা হচ্ছিল। আর সেই কারণেই চালানো হয় হামলা।
