সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হানা ও নিকোলাস মাদুরোর অপহরণে মৌখিক বিরোধিতা করলেও ঠিক এটাই চেয়েছিল রাশিয়া! একদিকে ভেনেজুয়েলা ও অন্যদিকে ইউক্রেন দুই দেশের অধিকার কায়েমের বিরাট কূটনৈতিক ষড়যন্ত্রের ব্লুপ্রিন্ট রচিত হয়েছিল আজ থেকে ৭ বছর আগেই। সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্ট-এর রিপোর্ট অনুযায়ী চাঞ্চল্যকর এই দাবি করেছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনের প্রাক্তন শীর্ষ আধিকারিক ফিয়োনা হিল।
২০১৭ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে ইউরোপ ও রুশ বিষয়ের সিনিয়র ডিরেক্টর ও ডেপুটি অ্যাসিসটেন্টের দায়িত্ব সামলেছেন ফিয়োনা। তাঁর দাবি অনুযায়ী, রাশিয়া চাইছিল ঘনিষ্ঠ বন্ধু দেশ ভেনেজুয়েলায় যা খুশি পদক্ষেপ করুক আমেরিকা, পরিবর্তে ইউক্রেনে খোলা ছাড় দেওয়া হোক তাঁদের। ফিয়োনার দাবি অনুযায়ী, এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল দীর্ঘমেয়াদী 'মনরো ডকট্রিন' নীতির উপর ভিত্তি করে। এর নেপথ্যে ছিল আঞ্চলিক কূটনৈতিক কৌশল। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় রাশিয়ার প্রতিপত্তি মোটেই ভালো চোখে দেখে না ওয়াশিংটন। অন্যদিকে, প্রতিবেশী ইউক্রেনে ও পূর্ব ইউরোপে মার্কিন প্রভাব রাশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিবহুল। একে অপরের স্বার্থ বিবেচনা করেই গোপন রাজনৈতিক চুক্তি করে দুই দেশ।
ফিয়োনা হিলের মতে, ২০১৯ সালের মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে, রাশিয়া ট্রাম্প প্রশাসনকে একটি বার্তা পাঠিয়েছিল। যেখানে বলা হয়, রাশিয়া চায় আমেরিকা যেন তাঁর অঞ্চলের বিষয়ে নাক না গলায়। অন্যদিকে রাশিয়াও একই কাজ করবে। এই চুক্তিকে রুশ-ইউক্রেন বিনিময় চুক্তি বলে অভিহিত করা হয়। ভেনেজুয়েলা হামলার নেপথ্যে গোপন সেই চুক্তি মতো কাজ হয়েছে কিনা তা সরকারিভাবে সামনে না এলেও, পরিস্থিতি সে দিকেই ইঙ্গিত করছে। শনিবার ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার পর মৌখিক নিন্দা জানিয়েই দায় সেরেছে রুশ।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আসলে রাশিয়া চায় ইউক্রেনের ডনবস্কের পাশাপাশি ক্রিমিয়াও। এই ক্রিমিয়া হয়েই একমাত্র সমুদ্র বন্দরের নাগাল পাবে রুশ। কিন্তু সেই উদ্দেশ্য পূরণের পথে রাশিয়ার প্রধান বাধা আমেরিকা। তাই ওয়াশিংটনকে তুষ্ট করতে লাতিন আমেরিকার দেশগুলিতে নিজেদের প্রভাব কমিয়ে আমেরিকাকে সুযোগ করে দিতে কোনও আপত্তি নেই রাশিয়ার। বিনিময়ে আমেরিকা চায় ব্রিকস মুদ্রা, জি২০-এর মতো ক্ষেত্রে রাশিয়ার নিঃস্পৃহতা। এবং তাইওয়ান ইস্যুতে রুশ যেন চিনের পক্ষে না নেয় সেটা নিশ্চিত করা।
