সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ৬৩ বছরের রাষ্ট্রনেতা সেদিন নেচেছিলেন কোমর দুলিয়ে। লাল বেসবল টুপি ছিল মাথায়। সকলেরই জানা, এটা ট্রাম্পের ‘MAGA’র প্রতীক। এভাবেই ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সেদিন ‘জবাব’ দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। অন্তত এমনটাই মনে করেছিল ওয়াকিবহাল মহল। 'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'-এর দাবি, সেদিন মাদুরোর সেই নাচেই ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছিল ট্রাম্প প্রশাসনের। সেদিনই স্থির হয়ে যায়, মাদুরোর সঙ্গে ঠিক কী করা হবে। প্রশানের এক সূত্রের মন্তব্য, ''একটা নাচের মুদ্রা অনেক বেশি হয়ে গিয়েছিল।''
উল্লেখ্য, বরাবরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অপছন্দের তালিকায় শীর্ষে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট। দীর্ঘ দিন ধরে সামরিক উত্তেজনা চলছে দুই দেশের। এই পরিস্থিতিতে মাদুরোর তাঁর নিজের শান্তির স্লোগান ‘শান্তি হ্যাঁ, যুদ্ধ না’ স্লোগান থেকে তৈরি ‘পাজ সি, গুয়েরো নো’ নামের এক রিমিক্সেই কোমর দুলিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ মিরোফ্লোরস প্যালেসেই এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। আর সেখানেই দেখা যায় মাদুরোর নাচ। তাঁর চারপাশে ছিল অনুরাগীদের ভিড়। হাতে ভেনেজুয়েলার পতাকা। ছিলেন মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরস এবং দেশের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী দিয়াসদাদো ক্যাবেলো। তাঁর মাথাতেও লাল বেসবল টুপি। তাতে লেখা ‘সন্দেহ হল বিশ্বাসঘাতকতা’। মাদুরো কি ঘুণাক্ষরেও ভেবেছিলেন এই ব্যাঙ্গেরই চড়া মূল্য চোকাতে হবে তাঁকে?
শুক্রবার গভীর রাতে মাদুরোকে অপহরণ করে আমেরিকা। ভেনেজুয়েলায় মাত্র দু’ঘণ্টার অভিযানে প্রেসিডেন্টের বাসভবনের শোয়ার ঘর থেকে সস্ত্রীক মাদুরোকে তুলে নিয়ে গিয়ে বন্দি করা হয়। আমেরিকায় তাঁকে নিউ ইয়র্কের কুখ্যাত ব্রুকলিন জেলে রাখা হয়েছিল। মাদুরোকে বন্দি করার পর আমেরিকা জানিয়েছিল, নিউ ইয়র্কের আদালতে তাঁর বিচার হবে। সেই মতোই সোমবার বন্দি প্রেসিডেন্টকে ওই আদালতে হাজির করানো হয়েছে।
