গোলাবাড়িতে ভোরবেলায় প্রকাশ্যে প্রোমোটারকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে গুলি করে খুনের ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল রাজ্যকে। সামনে এসেছিল হাওড়া শহরের দুষ্কৃতীরাজের ঘটনা। পুলিশ দ্রুত দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করলেও আতঙ্ক কি কমেছে? সেই প্রশ্ন থাকছেই। কান পাতলেই ফিসফিস করে স্থানীয়দের মুখে দুষ্কৃতীরাজের কথা শোনা যায়। তবে প্রকাশ্যে তেমন কিছু কেউ বলতে চান না। কারণ এলাকার মানুষের ভয় চেপে বসে আছে দিনের পর দিন। হাওড়া শহরের বেশ কয়েক বছরের জ্বলন্ত সমস্যা প্রোমোটারি রাজ। আর তাকেই ইস্যু করে বিজেপি প্রচারে শান দিচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাধারণ মানুষ জানিয়েছেন, "প্রোমোটারি রাজ দীর্ঘদিন ধরে চলছে। সাধারণ মানুষজন যথেষ্ট ভয়ে থাকে।" এর বেশি তিনি কিছুই বলতে চাননি। এই ভয়ের বাতাবরণকে যেমন অস্ত্র করেছে বিরোধীরা, তেমনই উন্নয়নের পাঁচালি পড়ে শক্ত মাটি নিজেদের কাছে ধরে রাখতে চাইছে শাসকদল।
বাম জমানার পতনের পর এই হাওড়া জেলা তৃণমূলের অন্যতম বড় গড়। গত বিধানসভা আসনেও ১৬টি আসনের সবক'টিতেই জয় পেয়েছিল শাসকদল। এবারেও সবক'টি আসন অনেক বেশি মার্জিনে জেতার লক্ষ্যে ঝাঁপিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে বিজেপিও এবার জোর লড়াইয়ে। বেলিসিয়াস রোডের বেশ কয়েকজন বাসিন্দার মতে, তৃণমূল জেলায় বড় জয় পেলেও বেশ কয়েকটা আসন এবার বিজেপিও জিততে পারে।
মধ্য হাওড়ায় প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী অরূপ রায়। নিজস্ব চিত্র
অন্যান্য জেলার মতো হাওড়া জেলাতেও এসআইআরের প্রভাব যথেষ্ট পড়েছে। মহিলা ভোটারদের একটা বড় অংশের নাম বাদ গিয়েছে। জেলা মূলত শহর এবং গ্রাম, দুটি পর্যায়ে বিভক্ত। উলুবেড়িয়া মহকুমা মূলত কৃষিপ্রধান এলাকা। গ্রামীণ এলাকার একটা বড় অংশ সংখ্যালঘু মানুষদের বসবাস। বন্যা দুর্গত এলাকা হিসেবে পরিচিত এই জেলার নিমন দামোদর উপত্যকা। ফলে শাসকদল গতবারের ফলাফলে অনেকটা এগিয়ে থাকলেও প্রোমোটারি রাজ থেকে জলাজমি ভরাট, বেহাল নিকাশি ব্যবস্থা থেকে এসআইআর এবার ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। জেলায় এসআইআরে এক লক্ষ ৩২ হাজারের বেশি ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। ফলে একাধিক কেন্দ্রে ভোটের অনুপাত বদলে গিয়েছে। যা নিঃসন্দেহে ভোটব্যাঙ্কের ছবিটাও বদলে দেবে।
রাজনীতির ইতিবৃত্ত:
হাওড়া ও বালি দুই পুরসভার পরিষেবা নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে সমস্যা রয়েছে। এই দুই এলাকায় পুরভোট না হওয়ায় এখনও বোর্ড গঠিত হয়নি। ফলে উন্নয়ন-সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে কাজকর্ম হোঁচট খেতে খেতে চলছে। ফলে পুরভোট করা সম্ভব হয়নি। নিকাশি ব্যবস্থার বেহাল দশা থেকে রাস্তাঘাটে আবর্জনার স্তূপ, বেহাল পরিষেবা সংক্রান্ত অভিযোগ উঠে আসে সাধারণ বাসিন্দাদের তরফে। বালি পুরসভার এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, "মাঝেমধ্যেই নোংরা আবর্জনায় ভরে যায় এলাকা। বর্ষা এলেই গোটা এলাকা জলে ডুবে যায়। কারা এসব দেখবে?"
হাওড়া জেলায় এবার বিধানসভা ভোটে মূল ইস্যুই হল নাগরিক পরিষেবা। বিশেষত, কলকাতার চেয়ে প্রাচীন শহর হাওড়ায় নাগরিক পরিষেবা ঠিক মতো না পাওয়ায় ভোটারদের মধ্যে জন্মেছে তৃণমূল কংগ্রেসের পরিচালিত সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ! এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে এবার শহরাঞ্চলে পদ্ম ফুটবে কিনা তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। হাওড়ার গ্রামাঞ্চলে অবশ্য নাগরিক পরিষেবার চিত্রটা একটু অন্য। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের টাকা না মেলায় রাজ্য সরকারের রাস্তা, আবাসের মতো প্রকল্পে কোনও নাগরিক পরিষেবা পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। এসআইআর থেকে একাধিক বিষয়ে হাওড়ার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত গ্রামীণ এলাকায় সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে!
শিবপুরে প্রচারে বিজেপি প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষ। নিজস্ব চিত্র
হাওড়া জেলায় তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস ভোটে লড়ছে। হাওড়ায় প্রার্থী দিয়েছে আইএসএফও। তবে হাওড়া সদর ও গ্রামীণ এলাকর সব বিধানসভা কেন্দ্রেই মূল লড়াই এবার তৃণমূল ও বিজেপির। গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে হাওড়ায় রাজনৈতিক স্তরে ব্যাপক দলবদল হয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক হেভিওয়েট মুখ মন্ত্রী, বিধায়ক-সহ একাধিক ব্যক্তি বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন। কিন্তু ভোটবাক্সে তেমন কোনও সুবিধা করতে পারেনি বিজেপি। পরে দলবদলকারী নেতারাও ঘরওয়াপসি করেছেন। এবারের ভোটের কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে গেরুয়া শিবির? সেই প্রশ্ন থাকছেই। হাওড়া উত্তর, হাওড়া দক্ষিণ, হাওড়া মধ্য, বালি, শিবপুর আসনগুলি এবারের বিধানসভা নির্বাচনে যথেষ্ট নজরকাড়া।
এবারের নির্বাচনে কারা লড়াইয়ে?
ডোমজুড়, উলুবেড়িয়া, শ্যামপুর থেকে হাওড়া উত্তর, হাওড়া মধ্য, বালি, শিবপুর আসনগুলিতে এবার নজর থাকছে। তৃণমূল-বিজেপির প্রার্থীরাও যথেষ্ঠ হেভিওয়েট। হাওড়া মধ্য কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী অরূপ রায়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল এই কেন্দ্রে ৪১ হাজারের বেশি ভোটে জেতে। এবারও জয়ের ব্যবধান বেশি হবে, এমন দাবি তৃণমূলের। অরূপ রায়ের বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী বিপ্লব মণ্ডল। হাওড়া সদরে শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্র এবার সকলের নজরে। এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী বালির প্রাক্তন বিধায়ক রানা চট্টোপাধ্যায়। চিকিৎসক রানা চট্টোপাধ্যায়ের জায়গায় বালিতে এবার প্রার্থী করা হয়েছে তৃণমূল যুবর হাওড়া সদরের সভাপতি কৈলাশ মিশ্রকে। শিবপুর কেন্দ্রে এবার বিজেপি প্রার্থী অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। অন্যদিকে, শিবপুরের তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী মনোজ তিওয়ারিকে এবার টিকিট দেয়নি দল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে শিবপুর কেন্দ্রে সাড়ে ১৪ হাজার ভোটে এগিয়েছিলে তৃণমূল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল এই কেন্দ্র থেকে জিতেছিলে ৩২ হাজার ভোটে।
বাড়ি বাড়ি প্রচারে শিবপুরের তৃণমূল প্রার্থী রানা চট্টোপাধ্যায়। নিজস্ব চিত্র
হাওড়া উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী গৌতম চৌধুরী ও বিজেপির প্রার্থী উমেশ রাই। বিজেপি প্রার্থী উমেশ রাই এবার তৃণমূল প্রার্থীকে পিছনে ফেলার ব্যাপারে আশাবাদী। তাঁর দাবি, তিনি বিধায়ক হলে বিজেপি সরকার উত্তর হাওড়ায় নারী সুরক্ষায় গ্যারান্টি দেবেন। এছাড়া উত্তর হাওড়ায় হবে হাসপাতাল, কলেজ। উত্তর হাওড়ার মূল সমস্যা নিকাশি। হাওড়া দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী এখানকার বিদায়ী বিধায়ক নন্দিতা চৌধুরী। অন্যদিকে এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী শ্যামল হাতি।
বালি বিধানসভা কেন্দ্রের মূল সমস্যা সংকীর্ণ আন্দুল রোড হওয়ার ফলে নিত্যদিন যানজটের সমস্যা। আন্দুল রোড দিয়ে প্রচুর তেলের ট্যাঙ্কার চলাচল করে। এছাড়া এখানকার আরও একটি সমস্যা বাকসাড়া রেলগেট। বাকসাড়া রেলগেট দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকায় যানবাহন আটকে থেকে যান চলাচলে তীব্র সমস্যা হয়। অপরদিকে বালি বিধানসভা কেন্দ্রে মূল সমস্যা বেহাল নিকাশি ও জমা জঞ্জাল। বালি বিধানসভার মধ্যে লিলুয়া, বেলুড় ও বালিতে নিকাশির অবস্থা বেহাল। বেহাল নিকাশির সংস্কারের জন্য মাস্টারপ্ল্যানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন বালির তৃণমূল প্রার্থী কৈলাশ মিশ্র। রয়েছে পানীয় জলের সংকট। বেহাল নিকাশি ও পানীয় জলের সংকটকে এবার ভোটের ইস্যু করছেন বালির বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় সিং। বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় সিংয়ের বক্তব্য, "আমরা ক্ষমতায় এলে বালিকে ভয়মুক্ত করব।"
হাওড়া মধ্য কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী অরূপ রায়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল এই কেন্দ্রে ৪১ হাজারের বেশি ভোটে জেতে। এবারও জয়ের ব্যবধান বেশি হবে, এমন দাবি তৃণমূলের। অরূপ রায়ের বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী বিপ্লব মণ্ডল।
উলুবেড়িয়া পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে এবার টিকিট দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের রাজ্যস্তরের নেতা আইএনটিটিইউসির রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এছাড়া কয়েকটি কেন্দ্রে পুরনো বিধায়কদেরই তৃণমূল প্রার্থী করেছে। যেমন উদয়নারায়ণপুরে সমীর পাঁজা, পাঁচলায় গুলসন মল্লিক, বাগনানে অরুনাভ সেন, উলুবেড়িয়া দক্ষিণে পুলক রায়।
শ্যামপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী করেছে হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে। হিরণ খড়গপুরের বিধায়ক ছিলেন। কিন্তু এবার তাঁকে সেখানে দল প্রার্থী করেনি। দিলীপ ঘোষ সেখানে বিজেপির প্রার্থী। হিরণ টিকিট পাবে কিনা, তা নিয়েও জল্পনা ছিল গেরুয়া শিবিরে। তবে শেষপর্যন্ত তাঁকে হাওড়ার শ্যামপুরে প্রার্থী করা হয়েছে। বিজেপি প্রার্থীকে নিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। প্রথম স্ত্রী থাকার পরেও তিনি দ্বিতীয়বার বিবাহ করেছেন! সেই বিষয়ে টানাপোড়েনও চলে। নিজের দলের অন্দরেও কর্মী-সমর্থকদের ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন তিনি। এবার মনোনয়নপত্রে কোন স্ত্রীর নাম লিখবেন একসময়ের টলিউড অভিনেতা? সেই গুঞ্জনও ছড়িয়েছিল। শ্যামপুর এলাকায় প্রচার করছেন হিরণ। কিন্তু কতটা ছাপ ফেলতে পারবেন তিনি? সেই প্রশ্ন উঠেছে বিজেপির অন্দরেই।
হাওড়ায় ভোটের লড়াই:
এসআইআর খসড়া তালিকায় প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। বিচারাধীন ছিলেন প্রায় ২ লক্ষ ৯০ হাজার মানুষ। শেষপর্যন্ত জেলায় একলক্ষের বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে খবর। জেলার মহিলা ভোটার মোট প্রায় ৪৯ শতাংশ। তবে এবার এসআইআরে মহিলাদের নাম বেশি সংখ্যায় বাদ পড়েছে বলে খবর। গ্রামাঞ্চলে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় বহু মানুষের নাম বাদ গিয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের ফলাফলের নিরিখে জেলার ১৬টি আসনেই তৃণমূল জিতে রয়েছে। তবে জেলার একাধিক বিধানসভা এলাকায় বিজেপি অনেকটাই শক্তি বাড়িয়েছে। শহরাঞ্চলে হাওড়া উত্তর ও শিবপুরে এবার তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে লড়াই হবে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে গ্রামাঞ্চলে আমতা, শ্যামপুর, উলুবেরিয়া উত্তর ও উদয় নারায়ণপুরে। এমনই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ২০২৪ সালের ভোটের নিরিখে শহরাঞ্চলে ভোট পড়ে ৬১ শতাংশ, গ্রামাঞ্চলে ভোট পড়েছে ৫৮ শতাংশ।
ডোমজুড়ে প্রচারে বিজেপি প্রার্থী গোবিন্দ হাজরা। নিজস্ব চিত্র
কোন ফ্যাক্টরে ভোট:
সদর ও গ্রামাঞ্চলে এবার ভোটে একাধিক ভোটের ইস্যু রয়েছে। শহরাঞ্চলে রাস্তায় জমা জলের সমস্যা গুরুতর বিষয়। হাওড়া ও বালি পুরসভা এলাকায় এবারও এই ইস্যুতে বিজেপি জোরাল প্রচার চালাচ্ছে। এছাড়াও শহরাঞ্চলে প্রোমোটিং, পুকুর ভরাট-সহ একাধিক ইস্যু রয়েছে। বিজেপি প্রার্থীদের দাবি, শাসকদলের ছাতার তলায় হাওড়া শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায় গুন্ডারাজ চলে। এছাড়াও প্রচুর সংখ্যায় বেআইনি বহুতল ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে। অভিযোগ জানালেও, পুলিশ-প্রশাসনও তেমন কোনও ব্যবস্থা নেয় না বলে অভিযোগ।
রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায় এলাকায় জনসংযোগে ব্যস্ত। তিনি জানিয়েছেন, শহরের বেশ কিছু জায়গায় নাগরিক পরিষেবা নিয়ে সমস্যা আছে। হাওড়া ও বালি পুরসভা কাজ করতে পারছে না ভোট না হওয়ায়। তার প্রভাব নাগরিক পরিষেবাতেও পড়ছে। তৃণমূলের দাবি, এলাকায় উন্নয়ন হচ্ছে। আগামী দিনে আরও উন্নয়ন হবে।
এদিকে শিবপুর-সহ মধ্য হাওড়া এলাকাতে পানীয় জলের সংকটও বিজেপির প্রচারে উঠে এসেছে। মানুষজনের অভিযোগ, পরিশ্রুত পানীয়জল পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। শিবপুরের বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ প্রচারে বেরিয়ে পানীয় জলের সংকট-সহ একাধিক পরিষেবার খামতি নিয়ে প্রচারে ঝড় তুলেছেন। তিনি জানান, বহু জায়গায় রাস্তায় ভাঙা টিউওবওয়েল। জলের কল থাকলেও সেখান দিয়ে জল পড়ে না। পানীয় জলের সংকট রাজ্যে বিজেপি সরকার এলে দূর হবে। ডবল ইঞ্জিন সরকার কেন্দ্র ও রাজ্যে উন্নয়ন করবে। তবে বিজেপি প্রার্থীর বক্তব্যকে দিবাস্বপ্ন বলে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল।
ডোমজুড়ে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী তাপস মাইতি। নিজস্ব চিত্র
গ্রামাঞ্চলে উন্নয়নের প্রচার করছে তৃণমূল। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে যুব সাথী প্রকল্প, পাড়ায় পাড়ায় সমাধান মানুষের মধ্যে যথেষ্ঠ সাড়া ফেলেছে বলে মত তৃণমূলের। শুধু তাই নয়, কৃষক-শ্রমজীবী মানুষদের জন্যও একাধিক প্রকল্প করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাওড়া গ্রামীণের উলুবেড়িয়া, উদয় নারায়ণপুর, আমতা, বাগনান, বাউড়িয়া, পাঁচলা-সহ বিস্তীর্ণ এলাকা কৃষিপ্রধান। ধান চাষের পাশাপাশি আলু ও অন্যান্য সবজি চাষও হয়। কৃষক বন্ধু প্রকল্প নিয়ে তৃণমূল প্রচার করলেও আলু চাষিদের হাহাকার এবার প্রভাব ফেলতে পারে। সেই কথা মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিজেপি আলুচাষিদের ক্ষতি, রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে ধারাবাহিক প্রচার চালাচ্ছে এইসব এলাকায়।
গ্রামীণ এলাকা বরাবর সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। এসআইআরে বহু মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। বেছে বেছে নাম কাটা হয়েছে, বিজেপি কমিশনকে সামনে রেখে ধর্মের রাজনীতি করছে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় তৃণমূল এবারও ভোটের ব্যবধান অনেকটাই বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু আলুচাষিদের দুরাবস্থা নিয়ে ধারাবাহিক প্রচারে নেমেছে বিজেপি। আলুচাষিদের দুর্ভোগকে ক্রমাগত ইস্যু করছে গেরুয়া শিবির। এবার জেলায় কি বিরোধীদের হোয়াইট ওয়াশ করতে পারবে তৃণমূল? নাকি গঙ্গার পাড়ে পদ্ম ফুটবে? সেই চর্চা থাকছেই।
