shono
Advertisement
WB Assembly Election 2026

গোর্খাল্যান্ডের পর ইস্যু কামতাপুর! ভোটবঙ্গে উত্তরের রাজনীতিতে 'বিচ্ছিন্নতাবাদে'র সুর

শুধু মুখ্যমন্ত্রী নয়, বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলাকে ভেঙে আলাদা রাজ্য করার চক্রান্তের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন সিপিএম, আরএসপি নেতৃত্ব।
Published By: Kousik SinhaPosted: 04:04 PM Mar 26, 2026Updated: 04:20 PM Mar 26, 2026

যেন এক বারোয়ারী উৎসব! এবারও ভোট (WB Assembly Election 2026) আসতে বাংলা ভাগের ইস্যুতে উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে উত্তরের রাজনীতি। তবে এবার পাহাড়ে প্রকাশ্যে নয়! আড়ালে বিজেপির জোট সঙ্গী বিমল গুরুংয়ের হাত ধরে বইতে শুরু করেছে পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবি। কারণ, ইতিমধ্যে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা জাতিগত অবেগ কাজে লাগিয়ে ঘরোয়া ভোট প্রচারে গোর্খাল্যান্ডের তাস খেলতে শুরু করেছে বলে অভিযোগ। অন্যদিকে কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (কেএলও) সুপ্রিমো জীবন সিংহ নেতৃত্বাধীন কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিল (কেএসডিসি) পৃথক কামতাপুর রাজ্যের দাবিতে উত্তরের বিভিন্ন আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এই অবস্থায় ঘোলা জলে মাছ ধরতে আসরে বিজেপি। আলোচনার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে জীবন সিংহ-সহ কেএসডিসি-র বারোজন সদস্যকে মঙ্গলবার দিল্লিতে ডেকে নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

Advertisement

প্রসঙ্গত সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় একটি খবর ভাইরাল হয়। যেখানে অনুপ্রবেশের দরুণ বিহারের পূর্ণিয়া, আরারিয়া, কিষাণগঞ্জ, কাটিহার এবং উত্তরের জেলাগুলো নিয়ে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠনের দাবি করা হয়। যদিও এই খবর ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। যুক্তি ছিল, অঞ্চলগুলির জনবিন্যাস পাল্টে গিয়েছে। অবিলম্বে ওই অঞ্চলগুলিকে কেন্দ্রের আওতায় না আনলে সেখানকার আদি বাসিন্দাদের কোনও অস্তিত্ব থাকবে না। বিধানসভা নির্বাচনের আগে সোশাল মিডিয়ার ওই খবরকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। যদিও রাতারাতি কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়, এই খবর সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং ভিত্তিহীন। এর মধ্যেই মঙ্গলবার জীবন সিংহদের দিল্লিতে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার খবর সামনে আসতে রাজনৈতিক মহলে একাধিক জল্পনা তৈরি হয়েছে! প্রশ্ন উঠছে, জীবনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় সরকার বাংলা ভাগের সুপ্ত পরিকল্পনাকেই জিগিড় দিতে চাইছে!

সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় একটি খবর ভাইরাল হয়। যেখানে অনুপ্রবেশের দরুণ বিহারের পূর্ণিয়া, আরারিয়া, কিষাণগঞ্জ, কাটিহার এবং উত্তরের জেলাগুলো নিয়ে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠনের দাবি করা হয়। যদিও এই খবর ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। যুক্তি ছিল, অঞ্চলগুলির জনবিন্যাস পাল্টে গিয়েছে। অবিলম্বে ওই অঞ্চলগুলিকে কেন্দ্রের আওতায় না আনলে সেখানকার আদি বাসিন্দাদের কোনও অস্তিত্ব থাকবে না। বিধানসভা নির্বাচনের আগে সোশাল মিডিয়ার ওই খবরকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সন্দেহ অমূলক নয়। কারণ, বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল বদল করেছে মোদি সরকার। সিভি আনন্দ বোসকে সরিয়ে, তামিলনাড়ু থেকে আনা হয়েছে আর এন রবিকে। বিহারের রাজ্যপাল পদ থেকে আরিফ মহম্মদ খানকে সরানো হয়েছে। দিল্লির নতুন রাজ্যপাল করা হয়েছে আমেরিকায় ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত তরনজিৎ সিংহ সাঁধুকে। অভিযোগ, হঠাৎ এই রদবদল কেন, তা নিয়ে কাটাছেঁড়ার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহারকে নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। দাবি ওঠে,পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহারের কিছু অংশ নিয়ে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠনের চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার উত্তরবঙ্গ থেকে নির্বাচনী প্রচারের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সে কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "পরিকল্পনা করেছিল আপনাদের বিহারের সঙ্গে নিয়ে যাবে বলে। আমি আটকেছি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিকে। কয়েকদিন আগে প্ল্যানটা প্রকাশিত হয়েছিল সমাজমাধ্যমে। সঙ্গে সঙ্গে গর্জন করেছি আমি।” মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ ছিল, বাংলা জয় করতে না পারায় এবার বাংলাকে ভেঙে আলাদা রাজ্য করার চক্রান্ত করছে বিজেপি।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এমন কড়া প্রতিক্রিয়ার কারণ হতে পারে, উত্তর থেকে প্রচার অভিযান শুরুর কয়েকদিন আগে কেএলও সুপ্রিমো জীবন সিংহের ভিডিও বার্তা। যেখানে কেএলও সুপ্রিমোকে রাজবংশী-কামতাপুরিদের মুখ্যমন্ত্রীর সভা বয়কটের হুইপ জারি করতে শোনা গিয়েছে। তবে শুধু মুখ্যমন্ত্রী নয়, বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলাকে ভেঙে আলাদা রাজ্য করার চক্রান্তের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন সিপিএম, আরএসপি নেতৃত্ব। আরএসপি-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্মল দাস বলেন, "ভোট এলেই বিজেপি আগুন নিয়ে খেলা শুরু করে। এবারও করেছে।" 

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement