shono
Advertisement
West Bengal Assembly Election

সাঁইবাড়ির মতোই ভগ্নপ্রায় বাম-বিজেপি! বর্ধমানে ফের ১৬-০ করাই লক্ষ্য তৃণমূলের

খণ্ডঘোষের চাষের জমিতে সার দিয়েছে উড়ছে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় পতাকা। বছর ২০ আগেও ওই এলাকা ভোটের সময় লাল পতাকায় মোড়া থাকত। সেসময় অখণ্ড বর্ধমান ছিল সিপিএমের সব থেকে বড় গড়। এই জেলা থেকে সিপিএম সব থেকে বেশি আসনে জয়ী হত। শুধু তাই নয়, আলিমুদ্দিনকে বর্ধমান লবি অনেকক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ কর! সেসময় কান পাতলে এই কথাও শোনা যেত।
Published By: Suhrid DasPosted: 09:19 PM Apr 24, 2026Updated: 09:19 PM Apr 24, 2026

খণ্ডঘোষের চাষের জমিতে সার দিয়ে উড়ছে তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা। বছর ২০ আগেও ওই এলাকা ভোটের সময় লাল পতাকায় মোড়া থাকত। সেসময় অখণ্ড বর্ধমান ছিল সিপিএমের সব থেকে বড় গড়। এই জেলাই বামেদের সবচাইতে বেশি আসন দিত। শুধু তাই নয়, আলিমুদ্দিনে বর্ধমান লবির দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর বর্ধমানের রাজনীতিও বদলে যায়। এখন পূর্ব বর্ধমান জেলা সম্পূর্ণভাবে তৃণমূলের খাসতালুক। বর্ধমান শহরের কার্জন গেটের আশপাশে তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকায় ছয়লাপ। এক তৃণমূলকর্মী বলেন, "বিজেপি-সিপিএমকে মানুষ চায় না। তৃণমূলই জিতবে। এই জেলা থেকে দল ভালো ফল করবে।"

Advertisement

স্টেশনের বাইরে থেকে বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে যাওয়ার পথে তেলমারুই রোডের পাশেই রয়েছে শিবমন্দির। সেই মন্দিরের পিছনেই একটি পোড়ো বাড়ি। আশপাশের এলাকায় বহু ছোট-বড় বাড়ি, দোকানপাট রয়েছে। কিন্তু ওই বাড়িটির কঙ্কালসার চেহারা! সেদিকে তাকিয়ে থমকে যেতেই এক টোটোচালক বলে উঠলেন, "ওটাই সেই সাঁইবাড়ি। যেখানে ছেলেদের খুন করে, তাঁদের রক্তমাখা ভাত মাকে খাওয়ানো হয়েছিল।" বাম আমলে 'সাঁইবাড়ি হত্যাকাণ্ড' আজও রাজনীতির চর্চায়। ৫৬ বছর আগের ওই ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল রাজ্য-রাজনীতিকে। টোটোচালক বলেন, বছরের পর বছর এভাবেই পড়ে রয়েছে এই বাড়ি। এখন পোড়ো বাড়ি। কেউ যায়ও না। সাপ-খোপের আড্ডা।" এবার ভোটে কী হবে? প্রশ্ন শুনে টোটোচালক ও আশপাশের অন্যান্যদের উত্তর, এই জেলায় বিজেপির জায়গা নেই। তৃণমূলই জিতবে। 

সেই সাঁইবাড়ি এখন পোড়োবাড়ি। নিজস্ব চিত্র

জেলার রাজনীতি

৫৬ বছর আগের ঘটনা শুনলে আজও অনেকেরই গা শিউরে ওঠে। ভোটের রাজনীতি আজও প্রাসঙ্গিক হয়ে আছে ওই সাঁইবাড়ি ঘটনা। বাড়ির ইট, খিলান খসে পড়েছে বহু অংশে। বটগাছের শিকড় আস্টেপৃষ্টে বেঁধে রেখেছে চুন-সুড়কির সেই বাড়ির গাঁথনি। না হলে কবেই হয়তো বিলীন হয়ে যেত। সেই নারকীয় ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল তাবড় সিপিএম নেতাদের। তখন রাজ্যে কংগ্রেস সরকার। 'জোত যার জমি তার' আন্দোলন, বর্গা আন্দোলন জাঁকিয়ে প্রান্তিক শ্রেণির মানুষের আস্থা নিয়ে ক্ষমতায় আসীন হয় বাম। হরেকৃষ্ণ কোঙারের মতো প্রবাদপ্রতিম কমিউনিষ্ট নেতার ভূমি এই বর্ধমান। সেইসময়ে অবিভক্ত বর্ধমানও ধীরে ধীরে লালদুর্গে পরিণত হয়। টানা ৩৪ বছর অপারেজয় হয়ে ওঠে বামেরা। সিপিএম নেতাদের কথায়, একঘাটে বাঘে-কুমিরে জল খেত সেইসময়। পরিস্থিতি এমনটাই ছিল, বিরোধী রাজনীতি করতে জেলায় বুকে বল লাগত।

অবিভক্ত বর্ধমান জেলার একদিকে খনি ও শিল্প, আর একদিক কৃষিতে উন্নত। এখনও 'রাইস বউল' বলা হয়ে থাকে পূর্ব বর্ধমানে। পশ্চিমাংশ কয়লাখনি, ইস্পাত, রেলইঞ্জিন তৈরি-সহ বিভিন্ন কলকারখানা। আর পূর্বভাগে ধান, সবজি, আলুচাষে সমৃদ্ধ। এখানকার গোবিন্দভোগ চালের জগৎজোড়া সুখ্যাতি। সীতাভোগ, মিহিদানা থেকে ল্যাংচা, পান্তুয়ার খ্যাতিও রয়েছে। সেই সমৃদ্ধ জেলায় ধীরে বামেদের ঘুণ ধরতে শুরু করে। মঙ্গলকোট, কেতুগ্রাম, আউশগ্রাম, রায়না, খণ্ডঘোষ, গলসি, জামালপুরের মতো এলাকা লাল সন্ত্রাসের আঁতুরঘর নামে পরিচিতি পেয়েছিল রাজ্যে। রাজ্য সিপিএমেও সংগঠনে বর্ধমান লবির আলাদা জোর ছিল। তৎকালীন জেলা সদর বর্ধমান থেকে নির্বাচিত হয়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মন্ত্রিসভার সেকেন্ড ইন কমান্ড হয়েছিলেন নিরুপম সেন। তিনি ছিলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী। যদিও ২০১১ সালে বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে সেই নিরুপম সেন তৃণমূলের রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের কাছে ৩০ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হন। লালদুর্গ এখন বদলে সবুজ হয়েছে। 

প্রচারে বেরিয়ে জনসংযোগ রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের। নিজস্ব চিত্র

গত ১৫ বছরে ভাগীরথী, অজয়, দামোদর নদে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। অখণ্ড বর্ধমান পূর্ব ও পশ্চিম দুই ভাগে ভাগ হয়েছে। ২০১৯ সালের সময় থেকে পদ্মফুলও ফুটতে শুরু করে পূর্ব বর্ধমানে। ভোটবাজারেও এবারের মূল লড়াই জোড়াফুল বনাম পদ্মফুল। যদিও বাম, কংগ্রেসও আলাদাভাবে লড়ছে। কিন্তু কতটা কল্কে পাবে তা ইভিএমেই বোঝা যাবে। কয়েক দিন আগে কালনার সভা থেকে আলুচাষিদের দুর্দশার কথা শুনিয়ে রাজ্য সরকারকে নিশানা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বর্ধমানের সীতাভোগ, মিহিদানা সু'দিন ফেরানো ও বিদেশে রপ্তানির ব্যবসা রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে হবে বলে জানান মোদি। ওই সভার দু'দিন পরে খণ্ডঘোষের সভা থেকে মোদিকে পাল্টা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলার গোবিন্দভোগ ধান জিআই ট্যাগ পেয়েছে তৃণমূলের আমলে। সীতাভোগ, মিহিদানাও জিআই ট্যাগ পেয়েছে এই জমানাতেই। মমতা প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে পাল্টা বলেছিলেন, "ওনারা ক্ষমতায় এলে নাকি সীতাভোগ মিহিদানা বিদেশে পাঠাবে। কিন্তু ওরা জানেই না আমরাই সীতাভোগ, মিহিদানা বিদেশে রফতানির ব্যবস্থা আগেই করে দিয়েছি। জানেই না ওরা এখন বিদেশে রপ্তানি হয় এই মিষ্টান্ন।"

এবারের ভোটে নজরকাড়া প্রার্থী

এই জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তিশালী ঘাঁটি। জেলার ১৬টি আসনেই তৃণমূল কংগ্রেস ২০২১ সালে জিতেছিল তৃণমূল। তবে বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক অনেকটাই বেড়েছিল। ওই বছর তৃণমূল প্রায় সাড়ে ৪৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। বিজেপি প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পায়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও শাসকদল নিজের গড় অক্ষুণ্ণ রেখেছিল। লোকসভা ভোটে তৃণমূল ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পায়। বিজেপির প্রায় ৪ শতাংশ ভোট কমেছে। রাজনৈতিক মহলের মত বিজেপির সুইং ভোটাররা তৃণমূলে গত লোকসভায় ভোট দিয়েছিলেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের ব্যবধান আরও বাড়াতে চান তৃণমূল নেতৃত্ব। পূর্বস্থলী দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী স্বপন দেবনাথ জানিয়েছেন, এবারও বিরোধীরা কোনও ফ্যাক্টর হবে না। জেলার সবক'টি আসনেই বড় ব্যবধানে জিতবে তৃণমূল। 

খণ্ডঘোষের তৃণমূল প্রার্থী নবীনচন্দ্র বাগের প্রচারে সায়নী ঘোষ। নিজস্ব চিত্র

এবার বর্ধমান উত্তর কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী নিশীথকুমার মালিক। পূর্বস্থলী দক্ষিণ কেন্দ্রে এবারও তৃণমূলের প্রার্থী তথা রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মন্ত্রী। এবারেও লড়াইয়ে তিনি। কাটোয়ায় তৃণমূলের প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। মঙ্গলকোটে শাসক দলের হয়ে লড়ছেন অপূর্ব চৌধুরী। মন্তেশ্বর থেকে জিতে মন্ত্রী হয়েছেন সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীও। এবারেও প্রার্থী হয়েছেন। একসময়ের কংগ্রেসের দুর্গ ছিল কাটোয়া বিধানসভা। বাম জমানাতেও কংগ্রেসের টিকিটে জিতে টানা বিধায়ক হন রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। কয়েক বছর আগে তিনিও তৃণমূলে যোগ দেন। বিধায়ক হন। এবারেও লড়াইয়ের ময়দানে। বর্তমানে তৃণমূলের জেলা সভাপতিও রবীন্দ্রনাথবাবু।

পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী বসুন্ধরা গোস্বামী। তিনি বাম জমানায় রাজ্যের মন্ত্রী ক্ষিতি গোস্বামীর কন্যা। এই জেলায় সিপিএম, বিজেপি, কংগ্রেসের তরফে সব কেন্দ্রেই প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। তবে প্রার্থীরা তেমন কোনও নজরকাড়া নেই বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। কংগ্রেস-সিপিএম প্রার্থী দিলেও এবারও জেলায় তৃণমূল ও বিজেপির মূল লড়াই। এমনই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। পূর্ব বর্ধমান জেলায় মোট ভোটার প্রায় ৪০ লক্ষ। এর মধ্যে সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ। জেলার মধ্যে মেমারি, মন্তেশ্বর, কাটোয়া, খণ্ডঘোষ, গলসি, কেতুগ্রাম বিধানসভা এলাকা সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। 

বাসে সাধারণ মানুষদের সঙ্গে জনসংযোগে বর্ধমান দক্ষিণের কংগ্রেস প্রার্থী গৌরব সমাদ্দার। নিজস্ব চিত্র

কোন ফ্যাক্টরে এবার ভোট

পূর্ব বর্ধমান জেলায় এসআইআরে এবার ২ লক্ষ ২৭ হাজার ৭৮৯ জন ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণার পর ১৭ হাজার ৯৮৪ জন ভোটারের নাম বাদ যায়। পরে বিচারাধীন ভোটারদের মধ্যে ২ লক্ষ ৯ হাজার ৮০৫ জনের নাম বাদ পড়েছে। জেলার মহিলা ভোটারের সংখ্যা মোট ভোটারের প্রায় ৪৯ শতাংশ। এসআইআরে নাম বাদ যাওয়ায় তেমন কোনও প্রভাব তৃণমূলের ফলাফলে পড়বে না। এমনই মত দলের নেতাদের। এসআইআর প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের হয়রানি হয়েছে। শুনানি কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়েছে প্রাক্তন সরকারি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থেকে শুরু করে পাসপোর্ট হোল্ডারদেরও! সংখ্যালঘু এবং পূর্ব বঙ্গীয় মানুষজনের নামও ব্যাপক হারে বাদ পড়েছে। একটা বড় অংশের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। এসআইআরের প্রভাব আরও বেশি করে তৃণমূলের পক্ষে যাবে বলে মত কাটোয়ার তৃণমূল প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের।

তৃণমূল স্বাস্থ্যসাথী, যুবসাথী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পের কথা তুলে ধরে প্রচার করছে। পাশাপাশি, বিজেপিশাসিত রাজ্যে নারী সুরক্ষাহীনতা কতটা বেআব্রু হয়েছে দিন দিন, তাও প্রচারে তুলে ধরছে। একসময় প্রত্যন্ত এলাকায় রাস্তাঘাট বলতে কিছু ছিল না। সেখানে এখন ঝাঁ চকচকে রাস্তা হয়েছে। চাষিরা কৃষক বন্ধু, ফসল বিমার সুবিধা পাচ্ছেন। সামাজিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তা অনেকটাই ভরসা রাজ্যের শাসক দলের। এদিকে, বাম-বিজেপি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দুর্নীতি, সিন্ডিকেট রাজ নিয়ে অভিযোগ তুলে ধরে নিশানা করছে তৃণমূলকে।  

বর্ধমান দক্ষিণের প্রচারে বিজেপি প্রার্থী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। নিজস্ব চিত্র

আলুচাষিরা দাম না পাওয়া নিয়েও আক্রমণ করছে শাসকদলকে। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা বর্ধমানে বিজেপির প্রচারে এসে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দুর্নীতির কথা বলে নিশানা করেন। রায়নার মান্তু ঘোড়ুই বলেন, "দিদি আমাদের মতো গরিব পরিবারের মানুষজনের জন্য বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পে সুরক্ষা দিচ্ছেন। আমরা অন্য কাউকে ভোট দেওয়ার কথা ভাবতেই পারি না। বিজেপি শুধুই প্রতিশ্রুতি দেয়, কাজ করে না। এটা সবাই জেনে গিয়েছে।" রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলছেন, "বিজেপিশাসিত রাজ্যে মানুষের দুর্দশার কথা কারও জানতে বাকি নেই। আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এতগুলো প্রকল্প চালু করেছেন। যার সুফল প্রতিটি বাড়ি পাচ্ছে। সে কথা মানুষ ভুলবে না।"

পূর্ব বর্ধমান জেলায় প্রায় ৭০ শতাংশই কৃষিপ্রধান এলাকা। রাজ্যের মধ্যে ধান উৎপাদনে এই জেলা শীর্ষস্থানে রয়েছে। ধান ছাড়াও, আলু, পাট, সবজি চাষেও এগিয়ে জেলা। একাংশে ফলের চাষও হয় ব্যাপক হারে। জামালপুর, মেমারি, কালনা, পূর্বস্থলী দক্ষিণ, পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা এলাকায় ব্যাপক হারে আলু চাষ হয়‌। কালনা, পূর্বস্থলী দক্ষিণ, পূর্বস্থলী উত্তর, কাটোয়া বিধানসভা এলাকায় পাটচাষও হয়। পূর্বস্থলীতে আমচাষও হয়। তবে আলুচাষিদের ক্ষতি নিয়ে এবার প্রচারে নেমেছে বিজেপি। তৃণমূল চাষেও কাটমানির রাজনীতি চালাচ্ছে বলে অভিযোগ। বিজেপি নেতা অভিজিৎ তা বলেন, "জেলার মানুষ তৃণমূলের দুর্নীতির জবাব দেবে ভোটে। তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে মানুষ রায় দেবে। রাজ্যে পরিবর্তন ঘটিয়ে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনবে।" 

মেমারির সিপিএমের প্রার্থী কৃশাণু ভদ্রর প্রচার। নিজস্ব চিত্র

জেলার কয়েকটি বিধানসভা এলাকায় তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল রয়েছে। কয়েকটি এলাকায় প্রার্থী ঘোষণার পর তৃণমূলের মধ্যে ক্ষোভ দেখা যায়। মেমারি ও বর্ধমান দক্ষিণ, খণ্ডঘোষ, মন্তেশ্বর, পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা এলাকাতে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে। প্রার্থী ঘোষণার পর তা প্রকাশ্যেও আসে। কিন্তু তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব সেই দ্বন্দ্ব মেটাতে কড়া অবস্থান নেয়। সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে মেটানোর চেষ্টা করেছে। সন্তু বাগ নামে নাদনঘাটের এক বাসিন্দা বলেন, "বাইরের রাজ্যে নারী সুরক্ষা নেই। গরিব মানুষের জন্য ওরা কিছু করে না। সব বড়লোকদের জন্য। কিন্তু আমাদের রাজ্য সরকার ঝকঝকে রাস্তা থেকে হাসপাতাল দিয়েছে। সামাজিক সুরক্ষায় বিভিন্ন প্রকল্পে সহায়তা দিয়েছে। যা আর কোথাও নেই।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement