shono
Advertisement

জঙ্গলমহলের দুই বিধানসভায় বিরাট অন্তর্ঘাত! বুথভিত্তিক রিপোর্টে উদ্বিগ্ন জেলা তৃণমূল

দলের অন্দরে কঠিন ‘শাস্তি’র মুখে পড়তে পারেন সংশ্লিষ্ট নেতৃত্ব।
Posted: 08:49 PM Mar 28, 2021Updated: 09:44 PM Mar 28, 2021

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: জঙ্গলমহল পুরুলিয়ার (Purulia) দুই বিধানসভায় প্রবল অন্তর্ঘাত তৃণমূলে! বুথ ভিত্তিক রিপোর্টে পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের (TMC) কাছে এই তথ্য উঠে এসেছে বলে খবর। এই অন্তর্ঘাতের জেরে দলের অন্দরে কঠিন ‘শাস্তি’–র মুখে পড়তে পারেন সংশ্লিষ্ট নেতৃত্ব। রবিবার বেলা গড়াতে এই রিপোর্ট হাতে আসার পরেই জেলা তৃণমূল থেকে এমন ইঙ্গিত মিলেছে।

Advertisement

পুরুলিয়া ও বান্দোয়ান বিধানসভায় দলের এমন অন্তর্ঘাতের কথা সামনে এসেছে। তবে সবচেয়ে বেশি অন্তর্ঘাত হয়েছে পুরুলিয়া বিধানসভার পুরুলিয়া পুর শহরে। এই পুর শহরের প্রথম সারির অধিকাংশ তৃণমূল নেতা যারা সরাসরি পুরসভার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাঁরা তলে তলে কংগ্রেসের হয়ে কাজ করে একেবারে শেষ বেলায় প্রকাশ্যে কংগ্রেসে ভোটে দেওয়ার কথা বলেছেন বলে অভিযোগ। সূত্রের খবর, এই সংক্রান্ত কিছু ভিডিও ফুটেজ দলের জেলা নেতৃত্বের কাছে এসেছে। তা পাঠানো হয়েছে রাজ্য নেতৃত্বের কাছেও। আর এই ভিডিও নিয়ে তোলপাড় পুরুলিয়ার জেলা তৃণমূলের অন্দর।

[আরও পড়ুন: ‘পরিকল্পনা করেই করেছিল, বিরুলিয়াবাসীর দোষ নেই’, হামলার তত্ত্বে অনড় মমতা]

তবে এই বিষয়ে একটা কথাও বলতে চায়নি পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল। দলের জেলা সভাপতি তথা পুরুলিয়া জেলা পরিষদের শিক্ষা–সংস্কৃতি–তথ্য–ক্রীড়া স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ গুরুপদ টুডু বলেন, “ব্লক সভাপতিদের কাছে বুথ ভিত্তিক রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। কিছু রিপোর্ট ইতিমধ্যেই হাতে এসেছে। আগামী দু-একদিনের মধ্যে জেলার সমস্ত বিধানসভার রিপোর্ট চলে এলে আমরা পর্যালোচনায় বসব।” তবে পুরুলিয়া ও বান্দোয়ান বিধানসভায় তৃণমূলে প্রবল অন্তর্ঘাত হলেও জনতার মন ঘাস ফুলেই পড়ে থাকায় ভোট গেছে শাসক দলেই। রিপোর্টে এমন কথাও উল্লেখ রয়েছে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্থানীয় নেতাদের কথা মানুষজন তথা সাধারন ভোটার প্রত্যাখ্যান করেছেন। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখেই ভোট পড়েছে ঘাসের ওপর জোড়া ফুলে।

পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের হাতে আসা একটি ভিডিও ফুটেজ থেকে স্পষ্ট ভাবে জানা গিয়েছে, পুরুলিয়া বিধানসভার মধ্যে শহর পুরুলিয়ার কোন কোন তৃণমূল নেতা কংগ্রেসের হয়ে কাজ করেছেন। তবে জেলা তৃণমূল শিবিরে একরাশ উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার মধ্যেও আশার আলো পুরুলিয়া শহরে ভোট করিয়েছেন তৃণমূল কর্মীরাই। রিপোর্টে তাও উল্লেখ আছে।

[আরও পড়ুন: ‘খাবও না, খেতেও দেব না’, প্রচারে বেরিয়ে মিঠুনের গলায় মোদির সুর]

গত বিধানসভা ভোটে (২০১৬) পুরুলিয়া বিধানসভায় তৃণমূল প্রার্থী দিব্যজ্যোতি প্রসাদ সিং দেও-র সময়েও অন্তর্ঘাত হয়। যার কারণে তৃণমূলের প্রবল হাওয়া থাকা স্বত্বেও তৎকালীন কংগ্রেস প্রার্থী সুদীপ মুখোপ্যাধ্যায় জিতে যান। দলের জেলা নেতৃত্বের কাছে আসা রিপোর্টে জানা গিয়েছে, সেবার যারা অন্তর্ঘাত করেছিলেন তাদের অনেকেই এবারের তালিকায় রয়েছে বলে বুথ ভিত্তিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে। বান্দোয়ান বিধানসভার বান্দোয়ান, মানবাজার দু’নম্বর ব্লকে অন্তর্ঘাত সবচেয়ে বেশি। দলের একাধিক প্রথম সারির নেতা কোন কাজ করেননি। তৃণমূল প্রার্থীকে ভোট না দেওয়ার কথা বলেছেন ওই এলাকার দলের জেলা নেতাদের একাংশ। এছাড়া প্রকাশ্যে বাধা দেওয়া হয়েছে প্রার্থীর নামে দেওয়াল লিখনেও। হাতে আসা রিপোর্টে সব কিছুই উল্লেখ রয়েছে। তবে ওই রিপোর্টেই উল্লেখ আছে, লোকসভার ধাক্কা কাটিয়ে জঙ্গলমহলের এই জেলায় দারুন ভাবে প্রত্যাবর্তন করেছে শাসক দল। সেটাকেই এখন বড় জয় হিসাবে দেখছে পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement