নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হতেই যেন উধাও তৃণমূলের মন্ত্রী থেকে শুরু করে জেলা নেতৃত্বরা। কেউ অ্যাম্বুল্যান্সে করে পালিয়েছেন, কেউ আবার ট্রেনে করে ভিন রাজ্যে চলে গিয়েছেন বলেই দাবি দলেরই কর্মী-সমর্থকদের। এই পরিস্থিতিতে ভোট পরবর্তী অশান্তির ফলে যে সমস্ত এলাকায় তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কোনও নেতৃত্বকে পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ, যাঁরা এখনও কোচবিহার ছেড়ে অন্যত্রে চলে যাননি তাদেরও ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। হয় তাঁরা ফোন ধরছেন না বা ফোন সুইচ অফ করে রেখেছেন। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা কি করবেন, কোথায় যাবেন, তা নিয়ে রীতিমতো দিশেহারা।
দিনহাটার তৃণমূল কর্মীদের একাংশের দাবি, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের রাতেই তথাকথিত 'দোর্দণ্ডপ্রতাপ' তৃণমূল নেতা উদয়ন গুহ চুপিসারে সপরিবারে অ্যাম্বুল্যান্সে করে নিরাপদ স্থানে চলে গিয়েছেন। সেটা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে সমালোচনাও চলছে। কী করে একজন নেতৃত্ব কর্মীদের কথা না ভেবে ভাবে গা ঢেকে সপরিবারে পালিয়ে যেতে পারেন? তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। তবে যে সমস্ত বিষয় রটছে, সেগুলো আদৌ সত্য কিনা তা জানতে প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহকে (Udayan Guha) ফোন করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
কোচবিহারে তালাবন্দি উদয়ন গুহর বাড়ি।
অপরদিকে জয়ী হওয়ার পরও কার্যত সঙ্গীতা রায় ও তার স্বামী সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া গা ঢাকা দিয়েছেন বলেই দলের কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ। প্রকাশ্যে তাঁদের কোথাও দেখা যাচ্ছে না। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়াতেও নিজের প্রোফাইলে দলের নেতৃত্বদের ছবি বদলে রাজবংশী পোশাকের ছবি পোস্ট করেছেন সাংসদ। যদিও প্রতিক্রিয়ার জন্য ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তৃণমূলের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক নিয়ম করে প্রতিদিন কোচবিহার শহর ও দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে প্রাতঃভ্রমণ করার জন্য বের হতেন। তবে ফল প্রকাশের পর থেকে আর তাঁকে দেখা যাচ্ছে না। এমনকি দলের কর্মী সমর্থকদের এক অভিযোগ ফোনেও তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যাঁরা ক্ষমতাসীন ছিলেন তাঁদের না পাওয়া যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। এমনকি তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে ঝুলছে তালা। তবে বিক্ষুব্ধ যে সমস্ত তৃণমূল নেতাদের মূল ধারা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাঁরা নিজের বাড়িতে রয়েছেন। দলের পদাধিকারীদের না পেয়ে সেই বসে থাকা নেতৃত্বদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বাধ্য হচ্ছেন অধিকাংশ তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা বলে তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে।
