এক, দু'জন নয়, বাংলার চার বিধানসভা আসনে নিযুক্ত পর্যবেক্ষকদের পর্দাফাঁস করল তৃণমূল কংগ্রেস। কমিশনের কার্যকলাপে বিজেপির অঙ্গুলিহেলন যে স্পষ্ট, প্রমাণ-সহ তা সামনে আনা হয়। বাংলায় পর্যবেক্ষকদের নিয়োগে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সাংবাদিক বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ।
বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনের সাংবাদিক বৈঠকে ছবি ও নাম ধরে চার পর্যবেক্ষকের কাণ্ড কারখানা সামনে আনে তৃণমূল কংগ্রেস। কমিশনের নিযুক্ত যে চার পর্যবেক্ষকের কীর্তি এদিন সামনে আসে, তাঁরা হলেন বনগাঁ দক্ষিণের পর্যবেক্ষক অজয় কাটেসরিয়া, গাজোলের সাধারণ পর্যবেক্ষক ধীরজ কুমার, মধ্যমগ্রামের পর্যবেক্ষক অরিন্দম ডাকুয়া ও গন্দাম চান্দরুদু, যাঁকে বালিগঞ্জের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। এই চারজনের বিরুদ্ধেই বিস্ফোরক অভিযোগ তোলে তৃণমূল কংগ্রেস।
অভিযোগ, সাতনার কালেক্টর থাকাকালীন ৪০ একরের বেশি সরকারি জমি বেআইনিভাবে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত অজয় কাটেসরিয়াকে বনগাঁ দক্ষিণের পর্যবেক্ষক হিসেবে এনেছে কমিশন। মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ৮,০০০ কোটি টাকার বিশাল অ্যাম্বুল্যান্স টেন্ডার কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত ধীরজ কুমারকে গাজোলে ভোট পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে অরিন্দম ডাকুয়া, মধ্যমগ্রামের সাধারণ অবজারভার, ওড়িশায় বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে কাজ করেছেন, যা স্পষ্টতই একটি রাজনৈতিক নিয়োগ বলে অভিযোগ তৃণমূলের। গণ্ডম চন্দ্রুডু বালিগঞ্জের সাধারণ অবজারভার। অন্ধ্রপ্রদেশে আদিবাসী কল্যাণ দফতরের ডিরেক্টর হিসেবে কার্যকালে তাঁর বিরুদ্ধে যৌতুক হয়রানির মামলা হয়েছে।
তৃণমূলের অভিযোগ, 'মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বাংলায় বেছে বেছে লোক পাঠাচ্ছে অমিত শাহের পরামর্শে, এটাই তার জলজ্যান্ত প্রমাণ'। তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ বলেন, 'এতদিন ইডি, সিবিআই, আইটি, এনআইএ করে সুবিধা করতে না পেরে এখন বি-টিম হিসেবে নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগাচ্ছে বিজেপি।'
প্রসঙ্গত, দু'দিন আগেই মালদহের পুলিশ পর্যবেক্ষকের বিতর্কত তথ্য সামনে এনেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। অভিযোগ, মালদহে নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষক জয়ন্ত কান্তকর স্ত্রী বিহারের সক্রিয় বিজেপি নেত্রী। সূত্রের খবর, আসন্ন ভোটে তিনি বিহারের একটি আসন থেকে ভোটে লড়াই করতে পারেন। তৃণমূলের অভিযোগ, 'মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বাংলায় বেছে বেছে লোক পাঠাচ্ছে অমিত শাহের পরামর্শে, এটাই তার জলজ্যান্ত প্রমাণ'। তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ বলেন, 'এতদিন ইডি, সিবিআই, আইটি, এনআইএ করে সুবিধা করতে না পেরে এখন বি-টিম হিসেবে নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগাচ্ছে বিজেপি।'
রাজ্যের মুখ্যসচিব থেকে স্বরাষ্ট্রসচিব, প্রায় সব প্রশাসনিক আমলাকে রাতারাতি বদলে দেওয়ার অভিযোগে এদিনও ফের সরব হয়েছে তৃণমূল। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রেক্ষিতে কমিশনের দায়বদ্ধতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে বারবার একাধিক অভিযোগ তুলছে রাজ্যের শাসকদল। তাহলে কি সর্বোচ্চ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের আড়ালে রাজনৈতিক মতাদর্শই ঘুণ ধরাচ্ছে? প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
