দেশভাগের আগে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মহম্মদ আলি জিন্নার প্রাণঘাতী যক্ষ্মা রোগের সংবাদ গোপন রেখেছিলেন তাঁরা। স্বীকৃতিস্বরূপ ওই দুই ভারতীয় চিকিৎসককে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান প্রদান করা হবে। সম্প্রতি পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক মন্ত্রী এবং পুরস্কার সংক্রান্ত কমিটির প্রধান আহসান ইকবাল এ কথা ঘোষণা করেছেন।
জানা যায়, জিন্নার অসুস্থতার খবর যেন কেবল তাঁর ঘনিষ্ঠদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তা নিশ্চিত করেছিলেন মুম্বইয়ের দুই পার্সি চিকিৎসক ড. জল রতনজি প্যাটেল এবং রেডিওলজিস্ট ড. জল ধায়ভো-কু। 'নীরব কিন্তু অসাধারণ অবদান' রাখার জন্য তাঁদের মরণোত্তর 'নিশান-ই-ইমতিয়াজ' সম্মানের জন্য মনোনীত করেছে ইসলামাবাদ। সম্প্রতি নিজের এক্স হ্যান্ডলে এক পোস্টে আহসান ইকবাল জানান, ১৯৪৬ সালে ড. প্যাটেল ও ড. ধায়ভো-কু জিন্নার বুকের এক্স-রে করে বুঝতে পেরেছিলেন যে, তাঁর যক্ষ্মা রোগটি মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। তাঁর আয়ু আর মাত্র এক থেকে দু'বছর রয়েছে। চিকিৎসাসেবার পেশাগত গোপনীয়তার নীতি মেনে তাঁরা এই দূরারোগ্য ব্যাধির খবর সম্পূর্ণ গোপন রাখেন।
অনেক ইতিহাসবিদের মতে, সে সময় এই তথ্য জানাজানি হলে ভারত বিভাগ ও পাকিস্তান গঠনের সময়রেখা বদলে যেতে পারত। ইকবাল বলেন, "জিন্নার মরণব্যাধির তথ্য বিশ্বস্ততার সঙ্গে গোপন রাখা মুম্বইয়ের পার্সি সম্প্রদায়ের দুই প্রখ্যাত চিকিৎসককে নিশান-ই-ইমতিয়াজ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করতে পেরে আমি গর্বিত।" জানা গিয়েছে, ২০২৭ সালের মার্চে দুই ভারতীয় চিকিৎসককে মরণোত্তর সম্মান প্রদান করা হবে।
