যুদ্ধ বিধ্বস্ত হরমুজ প্রণালী পেরল ভারতের পতাকাবাহী আরও দুই জাহাজ। কেন্দ্র সরকারের একটি সূত্রের খবর, তিন-চারদিনের মধ্যেই সেগুলি ভারতে প্রবেশ করবে। দু’টি জাহাজ মিলিয়ে প্রায় ৯২ হাজার ৬০০ টন গ্যাস দেশে আসতে চলেছে বলে খবর। যুদ্ধ এবং গ্যাস সংকটের মাঝে একের পর এক ভারতীয় জাহাজের হরমুজ পার যে বিরাট কূটনৈতিক সাফল্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু প্রশ্ন হল, হরমুজ পেরনোর ‘অনুমতি’ দেওয়ার জন্য নয়াদিল্লিকে কি বড় অঙ্কের ‘ফি’ দিয়ে হয়েছে ইরানকে?
সম্প্রতি একটি ব্রিটিশ সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে ইরানের এই অর্থ নেওয়ার বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের জাতীয় সুরক্ষা কমিটির সদস্য আলাদিন বোরোজের্দির নাম। তাঁর কথায়, "প্রত্যেকটি জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার করার জন্য ২ মিলিয়ন ডলার দিতে হচ্ছে ইরানকে। কারণ, যুদ্ধের যথেষ্ট খরচ রয়েছে। তাই হরমুজে চলাচলকারী জাহাজের থেকে অর্থ নেওয়াই উচিত। আলাদিনের মতে, এই পদক্ষেপ থেকেই বোঝা যায় যে হরমুজের উপর ইরানের কতখানি কর্তৃত্ব রয়েছে। তবে সূত্রের খবর, সম্প্রতি হরমুজ পেরনো ভারতীয় দুই জাহাজের থেকে কোনও রকম অর্থ বা 'ফি' নেয়নি তেহরান।
সম্প্রতি ভারতের যে দু’টি জাহাজ হরমুজ পেরল, সেগুলির হল পাইন গ্যাস এবং জগ বসন্ত। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর শারজাহের কাছে এই দুই ট্যাঙ্কার বেশ কিছু সপ্তাহ ধরেই আটকে পড়েছিল। সূত্রের খবর, শনিবারই দু’টি জাহাজ ভারতের উদ্দেশে রওনা দেয়। এরপর সোমবার জাহাজগুলি হরমুজ পেরোয়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলছে ইরানের সঙ্গে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যুদ্ধ। ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ অবরুদ্ধ করে গোটা বিশ্বের উপর আরও চাপ বাড়িয়ে যাবে তেহরান। তার জেরে গোটা বিশ্বে তেল এবং গ্যাস সরবরাহ একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে। তবে এমন হুঙ্কার দেওয়া সত্ত্বেও ভারতকে আলাদা ‘ছাড়পত্র’ দিয়েছে ইরান। গত সপ্তাহে হরমুজ পেরিয়ে ভারতে এসে পৌঁছেছে দুই গ্যাসবাহী জাহাজ শিবালিক এবং নন্দা দেবী। এবার ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে আরও দুই জাহাজ।
