ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে এখন পালানোর পথ খুঁজছে আমেরিকা। হুমকি, হুঁশিয়ারি আপাতত তালাবন্দি করে ৫ দিনের যুদ্ধবিরতিতে হেঁটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সংঘর্ষবিরতি নিয়েও শুরু হয়েছে তৎপরতা। এহেন পরিস্থিতির মাঝেই যুদ্ধবিরতিতে আমেরিকার উপর ৩টি শর্ত চাপাল ইরান। শুধু তাই নয়, কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, যদি ইরানের উপর হামলা হয় তবে আমেরিকার ট্রাম্প খোঁড়া করা হবে।
সংঘর্ষবিরতি নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গ উঠতেই এই ইস্যুতে মুখ খুলেছেন ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেইয়ের সেনা উপদেষ্টা মোহসিন রেজাই। হুঁশিয়ারির সুরে তিনি জানান, "যদি ট্রাম্প ইরানের কোনও পরিকাঠামোতে আঘাত হানে তাহলে এই ঘটনা 'চোখের বদলে চোখে' সীমিত থাকবে না। চোখের বদলে মাথা, হাত ও পা ভেঙে দেওয়া হবে। আমেরিকাকে খোঁড়া করে দেওয়া হবে।" এছাড়াও অন্য একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, সংঘর্ষবিরতির বিষয়েও ট্রাম্প নিজেদের প্রস্তাব পেশ করেছে। সেখানে নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকেছে তেহরান।
"যদি ট্রাম্প ইরানের কোনও পরিকাঠামোতে আঘাত হানে তাহলে এই ঘটনা 'চোখের বদলে চোখে' সীমিত থাকবে না। চোখের বদলে মাথা, হাত ও পা ভেঙে দেওয়া হবে। আমেরিকাকে খোঁড়া করে দেওয়া হবে।"
মোজতবার পরামর্শদাতা জানিয়েছেন, "যুদ্ধ ততদিন জারি থাকবে যতদিন না আমেরিকা ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে। এই যুদ্ধে ইরানের যা কিছু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সমস্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে আমেরিকা ও ইজরায়েলকে।" সংঘর্ষবিরতির দ্বিতীয় শর্তে বলা হয়েছে, "ইরানের উপর দীর্ঘ বছর ধরে জারি থাকা সমস্ত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিতে হবে।" এবং তৃতীয়ত, "আন্তর্জাতিক আইনি গ্যারান্টি দিতে হবে যে ওয়াশিংটন ইরানের কোনও বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। তাহলেই এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব।"
ইরানের ওই শীর্ষ আধিকারিক আরও বলেন, "যুদ্ধ একসপ্তাহ আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং আমেরিকা যুদ্ধবিরতিতে প্রস্তুতও ছিল। তবে ইজরায়েল এই যুদ্ধ থামতে দেয়নি। তাঁর চাপেই আমেরিকা এই পথে হেঁটেছে। তবে সংঘাতের প্রাথমিক পর্যায়েই ওয়াশিংটন বুঝে গিয়েছিল জয়ের কোনও পথ নেই।" উল্লেখ্য, ট্রাম্পও বুঝতে পারছে এই যুদ্ধ যতটা সহজ হবে বলে ভাবা হয়েছিল আসলে ততটা সহজ নয়। হরমুজ খুলতে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল আমেরিকা। না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। এরপর অবশ্য সম্পূর্ণ পালটি খেয়ে আগামী ৫ দিন হামলা না চালানোর প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। গোটা ঘটনায় বিশেষজ্ঞদের দাবি, ট্রাম্প এখন যুদ্ধ থেকে বেরোনোর পথ খুঁজছেন। এদিকে আমেরিকাকে বিস্মিত করে হামলার ঝাঁজ ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। এই অবস্থায় ট্রাম্পের নাকে দড়ি পরানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে ইরান।
