ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় শনিবার পাকিস্তানে পৌঁছেছেন মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স। পাকভূমে তাঁর নিরাপত্তার জাঁকজমক নজর কাড়ল বিশ্বের। মার্কিন উপরাষ্ট্রপতির বিমান বোয়িং সি-৩২ পাক আকাশসীমায় ঢুকতেই তাঁর নিরাপত্তায় হাজির হল পাকিস্তানের ৫টি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। নিরাপত্তার এত বিশাল কড়াকড়ি দেখে মনে হচ্ছিল যেন পাকিস্তানে নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে ভ্যান্সের।
জানা যাচ্ছে, শনিবার সকালেই পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢোকে ভ্যান্সের বোয়িং সি-৩২ বিমানটি। বাকি রাস্তাটুকু নিরাপত্তার বেষ্টনীতে মুড়ে নিয়ে আসা হয় মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধানের বিমানটি। গত বছর সিঁদুর অভিযানে ধ্বংস হয়ে যাওয়া পাক নূর খান বিমান ঘাঁটি সারাইয়ের পর এদিন সেখানেই অবতরণ করে জেডি ভ্যান্সের বিমানটি। এখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ইশক দার ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির। ভ্যান্সের সঙ্গে ওই বিমানে আসেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। তাঁদের অভ্যর্থনা জানানো হয় পাক রাষ্ট্রপ্রধানদের তরফে।
মার্কিন উপরাষ্ট্রপতির বিমান বোয়িং সি-৩২ পাক আকাশসীমায় ঢুকতেই তাঁর নিরাপত্তায় হাজির হল পাকিস্তানের ৫টি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান।
এদিকে ইরান-আমেরিকা শান্তি বৈঠকের আগে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা ইসলামাবাদকে। মোতায়েন করা হয়েছে হাজার হাজার পুলিশ এবং জওয়ান। শুধু তা-ই নয়, সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে স্কুল-কলেজ এবং বাজার। জানা গিয়েছে, ‘রেড জোন’ এলাকাগুলিতে অর্থাৎ যেখানে রয়েছে সংসদ, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যালয়, বিলাসবহুল হোটেল এবং দূতাবাস সেখানে বেসরকারি যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দু’দেশের প্রতিনিধিরা যাতে নির্বিঘ্ন যাতায়াত করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে শহরজুড়ে বেশ কয়েকটি চেক পয়েন্ট বসানো হয়েছে। সেখানে ২৪ ঘণ্টা উপস্থিত থাকবে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী। গোটা শহরের যান চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। পাকিস্তান সরকারের তরফ থেকে ইসলামাবাদে বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটি ঘোষণাও করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দু’সপ্তাহের যুদ্ধ বিরতিতে শান্তি বৈঠকে বসেছে ইরান-আমেরিকা। মার্কিন প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ইসলামাবাদে পৌঁছেছে ইরানের প্রতিনিধি দলও। মনে করা হচ্ছে, আলোচনায় উঠে আসবে ইরানের পরমাণু প্রকল্প, হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসলামাবাদে আয়োজিত বৈঠকটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে ইরান। সমঝোতার ক্ষেত্রে তেহরানের সদিচ্ছা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কালিবাফ। তবে আমেরিকাকে তাঁরা একেবারেই বিশ্বাস করেন না। এই কারণেই শান্তি চুক্তির বিষয়ে বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। এর মধ্যে রয়েছে, লেবাননে ইজরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ এবং যুদ্ধবিরতির দাবি। এছাড়া পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে সেনা মোতায়েন বা সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে পারবে না আমেরিকা।
