অবশেষে পাঁচ ঘণ্টা দেরিতে ইসলামাবাদে শুরু হল ইরান-আমেরিকা শান্তি বৈঠক (US Iran Talks)। সূত্রের খবর, আলোচনার আগে ইরান যে পূর্ববর্তী শর্তগুলি রেখেছিল সেগুলি নিয়ে এখনও জটিলতা কাটেনি। গোটা বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তার সুর শোনা গিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টে ডোনাল্ড ট্রাম্পের গলাতেও। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, যুদ্ধ নিয়ে কি আদৌ মিলবে রফাসূত্র?
শনিবার ট্রাম্প বলেন, “আলোচনা কোন দিকে এগোবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। কিছুটা সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরই ইরানের আসল মনোভাব জানা যাবে। হরমুজ প্রণালী শীঘ্রই খুলবে।” পাশাপাশি, জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিকল্প পথেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ইরানকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ অভিহিত করে ট্রাম্প বলেন, “যদি এই কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হয়, তাহলে আমেরিকা নতুন করে আবার ঘুঁটি সাজাতে প্রস্তুত। প্রয়োজনে ইরানকে আমরা আরও কঠোর জবাব দেব।”
সূত্রের খবর, দু’পক্ষ ইসলামাবাদে উপস্থিত থাকলেও এখনও পর্যন্ত ইরান-আমেরিকা সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসেনি। এর মূল কারণ হল ইরানের দেওয়া শর্তগুলিতে এখনও সম্মত হয়নি ওয়াশিংটন। তবে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সেড়েছেন মার্কিন উপ রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স। অন্যদিকে, আমেরিকা এবং ইরানের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলাদা আলাদা করে বৈঠক করেছেন পাক কর্তারাও। এরপর পাকিস্তান-ইরান-আমেরিকার ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা। কিন্তু তেহরানের দেওয়া শর্তগুলি নিয়ে জটিলতার কারণেই তা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
তেহরানের দেওয়া প্রধান শর্তগুলির মধ্যে রয়েছে, লেবাননে ইজরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ এবং যুদ্ধবিরতির দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে সেনা মোতায়েন বা সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে পারবে না আমেরিকা। এছড়াও হরমুজে চলাচলকারী জাহাজগুলির উপর 'ট্রানজিট ফি' বা কর বসানোর দাবিও জানিয়েছে ইরান। সূত্রের খবর, ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন প্রতিনিধি দল সেই শর্তগুলি খারিজ করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এখন শান্তি বৈঠক কোন দিকে এগোয়, সেটাই দেখার।
