ইরানের সঙ্গে রফাসূত্র না মিললেও হরমুজ প্রণালী (Strait Of Hormuz) মুক্ত করেই ছাড়বে আমেরিকা। পাকিস্তানে শান্তি আলোচনার মাঝেই হুঙ্কার দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এই মন্তব্যের পরই আশঙ্কার মেঘ ঘনাতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হলে ইরানে আরও বড় হামলা চালাতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
শনিবার ট্রাম্প বলেন, “আমি ইরানকে শুভকামনা জানাই। শান্তি বৈঠকে কী হয়, সেটাই দেখার। তারা এই যুদ্ধে পরাজিত হয়েছে। এখন তাদের সঙ্গে কোনও চুক্তি হোক কিংবা না হোক আমরা হরমুজ মুক্ত করেই ছাড়ব।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রতিনিধি দলটি দক্ষ এবং শক্তিশালী। এখনও পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই রয়েছে। ইরানের নৌসেনা, বায়ুসেনা সব ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। তাদের অস্ত্রও প্রায় শেষ। ইরানের নেতারা খতম। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কী হয়।”
শান্তি বৈঠকে যোগ দিতে শনিবারই ইসলামাবাদে পৌঁছে গিয়েছে ইরানের ৭০ জনের প্রতিনিধি দল। নেতৃত্বে রয়েছেন সে দেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং ইরানের সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। তেহরান সঙ্গে এনেছে অর্থনীতি, নিরাপত্তা, রাজনীতি এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞও। অন্যদিকে, শনিবার ভোরে ইসলামাবাদে নেমেছে মার্কিন বিশেষ বিমানও। আমেরিকার প্রতিনিধি দলে রয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনার।
ইসলামাবাদে আয়োজিত বৈঠকটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে ইরান। সমঝোতার ক্ষেত্রে তেহরানের সদিচ্ছা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঘালিবাফ। তবে তিনি এটাও জানিয়েছেন, আমেরিকাকে তাঁরা একেবারেই বিশ্বাস করেন না। সেই কারণেই শান্তি বৈঠকের কিছু শর্ত রেখেছে ইরান। এর মধ্যে রয়েছে, লেবাননে ইজরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ এবং যুদ্ধবিরতির দাবি। এছাড়া পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে সেনা মোতায়েন বা সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে পারবে না আমেরিকা। অন্যদিকে, বৈঠকের আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স বলেছেন, “আমরা আলোচনার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি। আমার মনে হয়, ইতিবাচক বৈঠক হবে।”
