যুদ্ধের জেরে ডিজিটাল সংকটে ইরান। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মাটিতে ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলার পর দেশব্যাপী ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করেছিল ইরান প্রশাসন। এই অবস্থায় গত ৫৭ দিন ধরে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে দেশটিতে। আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিয়েছে, এটি বিশ্বের ইতিহাসে কোনও দেশের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্তরের ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট।
নেটব্লকসের রিপোর্ট অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে জানুয়ারি মাস থেকে ইরানের নানান জায়গায় সরকার বিরোধী বিক্ষোভের জেরে সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল ইন্টারনেট। যুদ্ধ শুরু পর প্রশাসনের তরফে পুরোপুরি ব্ল্যাকআউট ঘোষণা করা হয়। যার জেরে এই দেশের ৯ কোটির বেশি মানুষের জন্য ডিজিটাল অ্যাক্সেস পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ইন্টারনেট শাটডাউনের ক্ষেত্রে এটি বিশ্ব রেকর্ড। তবে এই ঘটনা মোটেই গর্বের বিষয় নয়। নেটব্লকসের মতে, এই সেন্সরশিপের জেরে মানবিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বেড়েই চলেছে।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই অচলাবস্থা যদি আরও দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, তবে তা ইরানের অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোর ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
নেটব্লক্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, এর আগে দীর্ঘ সময় ইন্টারনেট বন্ধের রেকর্ড ছিল সুদানের দখলে। গৃহযুদ্ধের জেরে ৩৬ দিন এখানে বন্ধ ছিল ইন্টারনেট। তবে মায়ানমার, ইথিওপিয়ার মতো দেশেও ধাপে ধাপে কয়েকমাস ধরে বন্ধ ছিল ইন্টারনেট পরিষেবা। তবে একটানা ৫৭ দিন ধরে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের রেকর্ড এখন ইরানের দখলে। কবে এই পরিষেবা চালু হবে তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই অচলাবস্থা যদি আরও দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, তবে তা ইরানের অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোর ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, প্রায় ২ মাস ধরে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে পাক মধ্যস্থতায় আমেরিকা ও ইরান বৈঠকে বসলেও সেই বৈঠক থেকে কোনও সমাধান সূত্র বের হয়নি। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর দ্বিতীয়দফার বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে গিয়েছে। এই অবস্থায় ইরানের আকাশে নতুন করে উঁকি দিতে শুরু করেছে যুদ্ধের সিঁদুরে মেঘ। সব মিলিয়ে দেশটির ইন্টারনেট পরিষেবা চালু হওয়ার আপাতত কোনও সম্ভাবনাই নেই।
