এই নিয়ে তৃতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপর প্রাণঘাতী হামলা হল। সর্বশেষ ঘটনা শনিবার রাতের। এবার হোয়াইট হাউসের নৈশভোজের অনুষ্ঠানের ট্রাম্পকে গুলি করে খুনের চেষ্টা করে আততায়ী। যদিও ব্যর্থ হয় সেই প্রচেষ্টা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, বারবার কেন তাঁকেই হত্যার চেষ্টা হচ্ছে? নেপথ্যে কোন কারণ রয়েছে?
উত্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করলেন, তিনি গুপ্তহত্যা নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। ফলে বিষয়টি তাঁর কাছে জলবৎ তরলং--- সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি, যিনি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে থাকেন সমকালীন দেশ-কাল-সমাজে, তাঁদেরকেই হত্যার চেষ্টা হয়ে থাকে। এর পর নিজের সঙ্গে কিংবদন্তি আব্রাহাম লিঙ্কনের তুলনা টানেন ট্রাম্প। উল্লেখ্য, ১৮৬৫ সালে ফোর্ড থিয়েটারে জন উইলকস বুথের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন ষোড়শ মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
হামলার কয়েক ঘণ্টা পরেই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেন, "আমার গুপ্তহত্যা নিয়ে পড়াশোনা আছে।" যোগ করেন, "আমাকে বলতেই হবে যে সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের উপরেই আক্রমণ হয়ে থাকে।" এর পরেই আব্রাহাম লিঙ্কনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "আপনারা আব্রাহাম লিঙ্কনের কথা ভাবুন।" নিজের উপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট 'গর্বিত' বলেও মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের ভাষায়, "একথা বলতে খারাপ লাগছে যে এই ঘটনায় আমি সম্মানিত। কিন্ত সত্যিই আমি অনেক কিছু করেছি। আমার দেশকে বদলে দিয়েছি। অনেকেই এতে খুশি নন। এটাই আমার ( উপর কেন বারবার হামলার) উত্তর।"
এর আগে হোয়াইট হাউসে দাঁড়িয়ে হামলা নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, “অভিযুক্তের কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র ছিল। প্রথমে একটি নিরাপত্তা তিনি চেকপয়েন্টে গুলি চালান। তারপর নৈশভোজের অনুষ্ঠানে হামলা চালান। তিনি অসুস্থ। কিন্তু সিক্রেট সার্ভিসের আধিকারিকরা তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। তবে সিক্রেট সার্ভিসের একজন আধিকারিক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কিন্তু বুলেটনিরোধক জ্যাকেট থাকায় তাঁর কোনও ক্ষতি হয়নি। অত্যন্ত সাহসীকতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি।” তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, এই ঘটনার সঙ্গে ইরান-যোগ নেই।
প্রসঙ্গত, স্থানীয় সময় শনিবার রাতে ওয়াশিংটনের একটি হোটেলে হোয়াইট হাউসের বার্ষিক নৈশভোজের অনুষ্ঠান ছিল। উপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৬০০ অতিথি। সাংবাদিক থেকে শুরু করে জনপ্রিয় অভিনেতা প্রত্যেকেই আমন্ত্রিত ছিলেন। নৈশভোজের পর ট্রাম্পের ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। তাঁর বক্তব্য শোনার জন্য অপেক্ষা করছিলেন সবাই। কিন্তু তার আগেই ভিড়ের মধ্যে আচমকা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালান ওই বন্দুকবাজ। সূত্রের খবর, মোট পাঁচ থেকে আটটি গুলির শব্দ শোনা গিয়েছিল। তারপরই হুলস্থুল পড়ে যায় সেখানে। প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই টেবিলের নিচে লুকোনোর চেষ্টা করেন। আবার অনেকে আতঙ্কে ছুটে পালাতে থাকে।
ঘটনার মুহূর্তের একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, নৈশভোজের মূল টেবিলে ট্রাম্প ছাড়াও রয়েছেন তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মার্কিন প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা। আচমকা সেখানে পরপর গুলি চলে। দ্রুত মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং অন্যান্যদের ঘিরে ফেলেন আমেরিকার সিক্রেট সার্ভিসের আধিকারিকরা। এরপর তাঁদের সেখান থেকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
