দুই দুষ্কৃতী শিবিরের সংঘর্ষে মৃত্যু মিছিল দক্ষিণ আমেরিকার হাইতিতে। বাড়ি বাড়ি ঢুকে রীতিমতো গণহত্যা চালাল 'গ্রান গ্রিফ' নামে এক মাফিয়া গোষ্ঠীর সদস্যরা। ভয়ংকর এই হামলায় অন্তত ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত আরও ৩০ জন। প্রাণে বাঁচতে ঘর ছেড়ে পালিয়েছেন হাজারের বেশি মানুষ। জানা গিয়েছে, গত সোমবার নৃশংস এই ঘটনা ঘটে হাইতির আর্তিবোনাইত অঞ্চলে।
গত ৩ বছর ধরে লাগাতার গোষ্ঠী সংঘর্ষ ও নিরাপত্তা সংকটে ভুগছে হাইতি নামের দেশটি। মাফিয়া গ্যাংদের কাছে কার্যত নিষ্ক্রিয় এখানকার পুলিশ প্রশাসন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, দেশটির বেশিরভাগ অঞ্চলে দাপট রয়েছে গ্রান গ্রিফ গ্যাংয়ের। দিন কয়েক আগে এই গোষ্ঠীর ঘাঁটিতে ঢুকে এদের সদস্যদের হত্যা করে বিরোধী গোষ্ঠী 'ভিভ আনসান'। এই হামলার বদলা নেওয়া হবে বলে রবিবার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল গ্রান গ্রাফের নেতা লুকসন এলান। এরপর রাত থেকে শুরু হয় হামলা।
পুলিশ যাতে কোনওভাবে এলাকায় ঢুকতে না পারে সে জন্য রাস্তা কেটে দেয় দুষ্কৃতীরা। ব্যারিকেড দিয়ে এলাকা ঘিরে ফেলে শুরু হয় হত্যাযজ্ঞ। এলোপাথাড়ি গুলির পাশাপাশি চলে বোমাবাজি।
পুলিশ যাতে কোনওভাবে এলাকায় ঢুকতে না পারে সে জন্য রাস্তা কেটে দেয় দুষ্কৃতীরা। ব্যারিকেড দিয়ে এলাকা ঘিরে ফেলে শুরু হয় হত্যাযজ্ঞ। এলোপাথাড়ি গুলির পাশাপাশি চলে বোমাবাজি। বাড়ি বাড়ি ঢুকে চলে হত্যাযজ্ঞ। এদের হামলা থেকে রেহাই পায়নি মহিলা, শিশুরাও। ৫০টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সোমবার যতক্ষণে পুলিশ সেখানে ঢোকে ততক্ষণে গোটা এলাকা কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে।
নৃশংস এই অপরাধের তীব্র নিন্দা করেছেন হাইতির প্রধানমন্ত্রী গ্যারি কনিল। মৃতদের প্রতি শোকবার্তা দিয়ে এই ঘটনাকে 'মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ' বলে জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও দেশটির প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকা এই অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে আদৌ কোনও পদক্ষেপের হবে কিনা তা অবশ্য প্রশ্নের মুখে। এদিকে রিপোর্ট বলছে, ২০২৪ সাল থেকে এই ধরনের অসংখ্য গ্যাং ওয়ার প্রাণ কেড়েছে হাইতির ১০ হাজার মানুষের। ঘরছাড়া প্রায় ১৪ লক্ষ মানুষ।
