দূর থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালিয়ে ইরানকে যে বাগে আনা যাবে না তা বেশ বুঝতে পারছে আমেরিকা। এই পরিস্থিতিতে মরিয়া ট্রাম্পের ইচ্ছে সরাসরি সেনা নামিয়ে ইরানের (Iran Ground Invasion) কফিনে শেষ পেরেক পোঁতা। তবে ইচ্ছে হলেই তো আর হল না, তার বাস্তবায়নে ঝুঁকি বিস্তর। ফলে খুঁটিনাটি বিচার করে ইরানের মাটিতে সরাসরি সেনা নামানোর সিদ্ধান্তে রীতিমতো দোটানায় পেন্টাগন। কূটনৈতিক মহলের দাবি, আমেরিকা যদি হঠকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থল অভিযান শুরু করে সেক্ষেত্রে ইরানের চক্রব্যূহে বন্দি হতে পারে মার্কিন সেনা। সেক্ষেত্রে ট্রাম্পের হাল হবে মহাভারতের অভিমুন্যের মতো।
বর্তমানে আমেরিকার মূল লক্ষ্য হরমুজের নিকটবর্তী খার্গ দ্বীপ দখল করে অর্থনৈতিকভাবে ইরানকে শূলে চড়ানো। একাধিকবার সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শোনা যাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হতে পারে অতিরিক্ত ১০ হাজার সেনা। আয়োজন চূড়ান্ত হলেও ইরানের ভৌগলিক পরিবেশ মার্কিন সেনার জন্য বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক 'কাউন্সিল অন ফরেন রিলেসনস'-এর সিনিয়র ফেলো লিন্ডা রবিনসন বলেন, "আমেরিকা যদি ইরানে সেনা নামায় তবে তা হবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এটা বোকামি ছাড়া কিছুই নয়।" পেন্টাগনের এক কর্তা বলেন, "এমনটা হলে হতাহতের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বাড়বে। রয়েছে ব্যর্থতার ঝুঁকিও।" মার্কিন সেনেটের বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালও এই স্থল অভিযানের পক্ষে নন। সব মিলিয়ে এই অভিযান নিয়েও ঘরের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
যেখানে যুদ্ধ হচ্ছে, সেখানকার ভৌগলিক অবস্থা সম্পর্কে বিশদ তথ্য থাকতে হবে সেনার কাছে। এক্ষেত্রে স্যাটেলাইট ইমেজ ও অন্যান্য প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হলেও তা নির্দিষ্ট এলাকাকে জানার জন্য যথেষ্ট নয়।
কিন্তু বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সেনার কাছে ইরানে স্থল অভিযান কেন এতখানি ঝুঁকিপূর্ণ? বিশেষজ্ঞদের দাবি, স্থল অভিযানের অর্থ হল সরাসরি নগর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া। এর ফলে যেখানে যুদ্ধ হচ্ছে, সেখানকার ভৌগলিক অবস্থা সম্পর্কে বিশদ তথ্য থাকতে হবে সেনার কাছে। এক্ষেত্রে স্যাটেলাইট ইমেজ ও অন্যান্য প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হলেও তা নির্দিষ্ট এলাকাকে জানার জন্য যথেষ্ট নয়। অজ্ঞাত এলাকার খুঁটিনাটির বিষয়ে অনভিজ্ঞ যোদ্ধারা পদে পদে বিপদে পড়বেন। শুধু তাই নয়, এই ধরনের অভিযানে ক্ষেপণাস্ত্র বা কামানের মতো ভারী অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করা যায় না। একইরকম হঠকারিতার জেরে অতীতে ভিয়েতনাম যুদ্ধে আমেরিকার করুণ পরিণতি হয়েছিল। মার্কিন সেনার বেহাল অবস্থা হয়েছিল আফগানিস্তান ও ইরাকেও।
শুধু আমেরিকা কেন, একইভাবে বিপাকে পড়তে দেখা গিয়েছে রাশিয়াকেও। ২০২২ সালে ইউক্রেনে অভিযান চালাতে সেখানকার শহরে ঢুকে পড়েছিল রুশ সেনা। ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ইউক্রেনে আটকে পড়েছিল দক্ষ রুশ সেনা। এর জেরে বিরাট ক্ষতির মুখেও পড়তে হয় তাদের। হারাতে হয় বহু সৈন্য ট্রাম্পের হুজুগে মার্কিন সেনারও সেই হাল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই ধরনের অভিযানে ক্ষেপণাস্ত্র বা কামানের মতো ভারী অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করা যায় না। একইরকম হঠকারিতার জেরে অতীতে ভিয়েতনাম যুদ্ধে আমেরিকার করুণ পরিণতি হয়েছিল।
অন্যদিকে যুদ্ধ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের যুদ্ধে তাঁরাই সর্বদা এগিয়ে থাকে যাদের মাটিতে লড়াই হচ্ছে। ফলে মার্কিন সেনা যদি অভিযান শুরু করে সেক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে ইরান। কারণ নিজেদের ভূখণ্ড সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ ধারণা রয়েছে তাদের। উপরন্তু, তারা ড্রোন ব্যবহার করে আমেরিকান সৈন্যদের নিশানা করতে পারে। তাছাড়া এই ধরনের যুদ্ধে কখন, কোথায় এবং কীভাবে আক্রমণ চালানো হবে তার আগাম আভাস পাওয়া কার্যত অসম্ভব। যার ফল ইরানের সেনার সাজানো চক্রব্যূহে সহজেই আটকা পড়তে পারে দক্ষ মার্কিন ফৌজ। অতীতে ঠিক যেমনটা হয়েছিল ভিয়েতনামে।
