shono
Advertisement
Iran Israel War

ইজরায়েলি হামলায় হরমুজের 'দ্বাররক্ষী'র মৃত্যু মানল ইরান, এবার কে পাহারা দেবে 'তেলের ধমনী'?

তেহরান জানিয়েছে, গত সপ্তাহে আলিরেজাকে নিশানা করে ভয়ংকর অভিযান চালানো হয়েছিল। যার জেরে গুরুতর আহত হন তিনি। চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যু হয়েছে তাঁর।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 06:16 PM Mar 30, 2026Updated: 07:03 PM Mar 30, 2026

ইজরায়েলের (Israel) অভিযানে মৃত্যু 'হরমুজের দ্বাররক্ষী' ইরানের (Iran) ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের নৌবাহিনীর প্রধান আলিরেজা তাংসিরির। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য স্বীকার করে নিল ইরান। তেহরান জানিয়েছে, গত সপ্তাহে আলিরেজাকে নিশানা করে ভয়ংকর অভিযান চালানো হয়েছিল। যার জেরে গুরুতর আহত হন তিনি। চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যু হয়েছে তাঁর। ইজরায়েলর দাবি ছিল, হরমুজ বন্ধ করার সন্ত্রাসী পরিকল্পনা ছিল এই কমান্ডারেরই মস্তিষ্কপ্রসূত।

Advertisement

গত শুক্রবারই আলিরেজার বিরুদ্ধে অভিযানের কথা প্রকাশ্যে এনেছিলেন ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কার্টজ। তবে এতদিন সে বিষয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করেনি ইরান। বরং গুপ্ত হামলার পালটা জবাব দিয়ে গিয়েছে তারা। অবশেষে আইআরজিসির তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে আলিরেজার মৃত্যুর কথা সামনে আনা হল। জানা যাচ্ছে, ২০১৮ সাল থেকে হরমুজের দায়িত্বে ছিলেন আলিরেজা তাংসিরি। বর্তমান সংঘাত আবহে তিনিই কৌশলে হরমুজ বন্ধ করে গোটা বিশ্বের উপর চাপ বাড়িয়েছিলেন। বলা বাহুল্য, হরমুজ অবরুদ্ধ করা ইরানের বড় চালগুলির মধ্যে অন্যতম। তাংসিরির চালে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এবার মৃত্যুবাণে বিদ্ধ হলেন ‘দ্বাররক্ষক’।

হরমুজ অবরুদ্ধ করা ইরানের বড় চালগুলির মধ্যে অন্যতম। তাংসিরির চালে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এবার মৃত্যুবাণে বিদ্ধ হলেন ‘দ্বাররক্ষক’।

ইতিমধ্যেই ইজরায়েলের হামলায় মৃত্যু হয়েছে নিহত আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের ‘ডান হাত’ বলে পরিচিত ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারজানির। শুধু তা-ই নয়, প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের গুপ্তচর মন্ত্রী ইসমাইল খাতিব। এছাড়াও ইজরায়েলি ক্ষেপমাস্ত্রে নিহত হয়েছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের আওতাধীন আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ ফোর্সের’ কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানি। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান হার মানার পাত্র নয়। আরও শক্তি দিয়ে তারা ঝাঁপিয়ে পড়বে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জলপথ হরমুজ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মাঝামাঝি অবস্থিত এই সংকীর্ণ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২২ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়। এটি বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে সরবরাহ হওয়া মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক পঞ্চমাংশ। সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত, কাতার, বাহরিন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এই প্রণালির মাধ্যমে তেল রপ্তানি করে থাকে। তেলের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস—বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এই পথ ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে পৌঁছায়। কাতার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ। তারা হরমুজের মাধ্যমে গ্যাস রপ্তানির ওপরেই নির্ভরশীল। এই সব কারণেই হরমুজকে ‘বিশ্বের জ্বালানির লাইফলাইন’ বলা হয়। ভারত, চিন, রাশিয়া, ইরাক এবং পাকিস্তানকে ‘ছাড়পত্র’ দিয়ে বাকি দেশগুলির জন্য হরমুজ বন্ধ করে রেখেছে ইরান। ফলে তৈরি হয়েছে জ্বালানি সংকট।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement