shono
Advertisement
Balendra Shah

একমাসেই ক্ষোভের মুখে বলেন্দ্র, প্রশ্নের মুখে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর বিদেশনীতি

কিন্তু ঠিক কী কারণে মসনদে বসেই এভাবে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে বলেন্দ্রকে? মূলত দু’টি কারণ রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম নতুন সরকার চাইছে না রাজনৈতিক দলগুলির ছাত্র ইউনিয়ন থাকুক।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 12:11 PM Apr 27, 2026Updated: 01:59 PM Apr 27, 2026

এক মাস আগেই নেপালের ৪৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি র‍্যাপার বলেন্দ্র শাহ (Balendra Shah)। কিন্তু একমাসও কাটেনি, ঘোর সমস্যায় তিনি। ক্রমেই বাড়ছে প্রতিবাদের ঝড়। নতুন প্রজন্মের এই প্রতিনিধির হাতে দেশের দায়িত্ব তুলে দিতে সম্মত হয়েছিলেন নেপালের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষই । কিন্তু একমাসও কাটেনি, ঘোর সমস্যায় সেই বলেন্দ্র। ক্রমেই তাঁর বিরুদ্ধে বাড়ছে প্রতিবাদের ঝড়। সড়ক থেকে শুরু করে প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র নেপালের ‘সিংহ দরবার’– পড়ুয়া থেকে সাধারণ নাগরিক ভিড় জমিয়েছেন সর্বত্র।

Advertisement

কিন্তু ঠিক কী কারণে মসনদে বসেই এভাবে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে বলেন্দ্রকে? মূলত দু’টি কারণ রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম নতুন সরকার চাইছে না রাজনৈতিক দলগুলির ছাত্র ইউনিয়ন থাকুক। তাতেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে, আলোচনার পরিবর্তে ‘দমনমূলক নীতি’ প্রয়োগ করতে চাইছে বলেন্দ্র সরকার। আর এটাই তরুণদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। আর সেই ক্ষোভের আগুন ক্রমেই ছড়াচ্ছে।

বরাবরই ভারতের সঙ্গে নেপালের সুসম্পর্ক বজায় থেকেছে। কিন্তু হঠাৎই ভারত থেকে আসা পণ্যের মূল্য একশো টাকার বেশি হলেই বাধ্যতামূলক শুল্ক দিতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে নতুন সরকার। যার জেরে সীমান্তবর্তী মানুষদের প্রবল সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

বরাবরই ভারতের সঙ্গে নেপালের সুসম্পর্ক বজায় থেকেছে। কিন্তু হঠাৎই ভারত থেকে আসা পণ্যের মূল্য একশো টাকার বেশি হলেই বাধ্যতামূলক শুল্ক দিতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে নতুন সরকার। যার জেরে সীমান্তবর্তী মানুষদের প্রবল সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কেননা তাঁদের নিত্য ব্যবহার্য পণ্যের জন্য ভারতের উপরে নির্ভর করতে হয়। এক প‌্যাকেট চিপস কিনলেও তা আটক হচ্ছে সীমান্তে। যার সঙ্গে এতদিন ধরে অভ‌্যস্ত ছিলেন না নেপালের মানুষ। এই জোড়া অভিযোগের আগুনে জ্বলছে নেপাল। আর সেই আগুন ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে জেন জি আন্দোলনের জেরে ওলি প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে পালিয়ে যান। এরপর দেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন। এরপর ৫ মার্চ জাতীয় নির্বাচন হয় নেপালে। ১৬৫টি আসনে ভোটের লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিল ৬৫টি রাজনৈতিক দল। কেউ ভাবতে পারেননি প্রাক্তন র‍্যাপার বলেন্দ্র শাহর নেতৃত্বে নবগঠিত রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি ‘আরএসপি’ সংসদীয় নির্বাচনে প্রথম সারির প্রার্থী হিসাবে আবির্ভূত হবে। কিন্তু সেটাই হয়। কিন্তু ক্ষমতায় এসে কি পায়ের তলার সিঁড়িটিকে ভুলে গেলেন বলেন্দ্র?

এদিকে নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নির্বাচনের আগে যে হলফনামা জমা দিয়েছিলেন তাতে সম্পত্তির পরিমাণ কম দেখিয়েছিলেন। বিতর্কের মুখে পড়তেই সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। পাশাপাশি গত ৯ এপ্রিল পদ থেকে সরানো হয়েছিল শ্রম, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষামন্ত্রী দীপককুমার শাহকে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement