অপারেশন সিঁদুরে ভারতের হাতে ব্যাপক মার খাওয়ার পর, সেই ক্ষত ঢাকতেই আফগানিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে নেমেছিল পাকিস্তান। এবার সামনে এল এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। দাবি করা হচ্ছে, 'বাঁশবনের শিয়াল রাজা' প্রবাদের মতো সাফল্যের ঢাক পেটাতে আপাতদুর্বল আফগানিস্তানে হামলা চালিয়ে বিজয় ধ্বজা উড়িয়েছিলেন আসিম মুনির। যে হামলায় মৃত্যু হয় আফগানিস্তানের শতাধিক সাধারণ মানুষের।
সম্প্রতি আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সামরিক অভিযান প্রসঙ্গে বিস্ফোরক রিপোর্ট প্রকাশ্যে এনেছেন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান। এদের মুখপত্র 'মুজাল্লাহ তালিবান'-এ যুদ্ধ প্রসঙ্গে পাক সেনাপ্রধান মুনিরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে বলা হয়েছে, 'আসিম মুনির আসলে ভারতের চেয়ে আফগানিস্তানকে সহজ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর এবং বিশ্বজুড়ে ভারতের বিরাট সমর্থন দেখে এই পথ বেছে নেন মুনির। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফগানিস্তানে হামলার পিছনে মুনিরের মূল উদ্দেশ্য ছিল নিজের সামরিক সাফল্য প্রদর্শন করা, এবং দেশের উপর নিজের কর্তৃত্ব আরও শক্তিশালী করা।
আফগানিস্তানে হামলার পিছনে মুনিরের মূল উদ্দেশ্য ছিল নিজের সামরিক সাফল্য প্রদর্শন করা, এবং দেশের উপর নিজের কর্তৃত্ব আরও শক্তিশালী করা।
শুধু তাই নয়, আফগানিস্তানে হামলার নেপথ্যে পাকিস্তানের আরও একটি উদ্দেশ্য ছিল আমেরিকার ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা। টিটিপির দাবি, আমেরিকার সঙ্গে ওদের বহু পুরনো আঁতাত রয়েছে। সেই আঁতাতের জং পরিষ্কার করতেই চলে হামলা। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আফগানিস্তানের শহরগুলিতে যে বিমান হামলা চলে তার লক্ষ্য বিদ্রোহ থামানো নয়, বরং আমেরিকাকে তুষ্ট করা এবং ভিক্ষের রাস্তা পরিষ্কার করা। টিটিপির আরও দাবি, ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান বলেছিল আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হয়েছে। 'অপারেশন গজব-লিল-হক'-এর অধীনে আফগানিস্তানের বেশ কয়েকটি জায়গায় হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টা পর এই মন্তব্য করা হয়। অর্থাৎ কোনও হামলার পালটা জবাব নয়, পাকিস্তানই প্রথম হামলা শুরু করে। পরে ওরা দাবি করে সীমান্তের ওপার থেকে 'উস্কানিমূলক গুলির' জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
উল্লেখ্য, গত বছর এপ্রিলে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার জবাবে ৭ মে অপারেশন শুরু করেছিল ভারত যে হামলায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় পাক জঙ্গিসংগঠনগুলির আঁতুড়ঘর। এরপর পাকিস্তান ভারতে হামলা চালালে পালটা পাক সেনাঘাঁটিগুলিকে তছনছ করে ভারত। দিল্লির হাতে ব্যাপক মার খাওয়ার পর সেই জ্বালা মেটাতে এবং বীরত্ব ফলাতে আপাত দুর্বল আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী হয়ে ওঠেন মুনির।
