যুদ্ধ পরিস্থিতি ইরানে! একদিকে সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-বিরোধী বিক্ষোভ, অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের উপর দমন-পীড়ন ইরান সরকারের। যা নিয়ে আমেরিকার ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি। ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন হামলার ভয়ে আকাশসীমা বন্ধ করল ইরান। এই অবস্থায় ইরান এবং তার চারপাশে উড়ানপথ বদলের সিদ্ধান্ত নিল এয়ার ইন্ডিয়া।এর জেরে উড়ানে বিলম্বের পাশাপাশি বাতিল হচ্ছে বহু বিমান। বর্তমান পরিস্থিতিতে যাত্রীদের প্রতি বিমানসংস্থার পরামর্শ, শেষ মুহূর্তের 'আপডেট' দেখে তবেই বিমানবন্দরে আসুন। প্রশ্ন উঠছে, ইরানে আটকে পড়া ভারতীয়রা কীভাবে দেশে ফিরবেন?
এক্স হ্যান্ডেলে এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ইরানে আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এই অঞ্চলের আকাশসীমার উপর দিয়ে যাতায়াতকারী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানগুলি এখন বিকল্প পথ ব্যবহার করছে। এর জেরে বিলম্ব হতে পারে।" কিছু বিমান বাতিল হতে পারে বলেও যাত্রীদের সতর্ক করা হয়েছে। যে সব বিমানগুলির উড়ানপথ শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, সেগুলি বাতিল করা হচ্ছে।" বিমানসংস্থা উল্লেখ করেছে, যাত্রী এবং বিমানকর্মীদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
দেশব্যাপী বিক্ষোভ এবং আমেরিকার হুঁশিয়ারির মধ্যে বৃহস্পতিবার থেকে অসামরিক বিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইরান। এছাড়াও মার্কিন সাইবার হামলার আশঙ্কায় বন্ধ করে দেওয়া সরকারি অফিসের ইন্টারনেট পরিষেবা। এর জেরেও সে দেশে অসামরিক বিমান চলাচলে বাধা তৈরি হয়েছে। তবে মার্কিন হামলার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। কারণ খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের হত্যা করা বন্ধ করেছে ইরানের আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের সরকার। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেনি তেহরান। কিন্তু ট্রাম্পের এই দাবির পরই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি মার্কিন চাপেই পিছু হটল ইরান?
এদিকে অবিলম্বে ইরান ছাড়তে ভারতীয় নাগরিকদের নির্দেশ দিয়েছে তেহরানের দূতাবাস। ইরান ছাড়ার জন্য জরুরি নথিপত্রও হাতের কাছে রাখতে বলা হয়েছে ভারতীয়দের। যে কোনও সমস্যায় তেহরানের ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগযোগ করতেও বলা হয়েছে ওই নির্দেশিকায়। হেল্পলাইন নম্বর এবং ইমেলও দেওয়া হয়েছে দূতাবাসের তরফ থেকে। এখানে প্রশ্ন, ইরানের আকাশসীমা বন্ধ। এয়ার ইন্ডিয়া বাতিল করেছে উড়ান। তাহলে কোন পথে ইরান ছাড়বেন ভারতীয়রা?
উল্লেখ্য, মঙ্গলবারই মার্কিন নাগরিকদের ইরান ছাড়তে নির্দেশ দিয়েছিল আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই জানিয়েছিলেন, প্রয়োজন পড়লে ইরানে হামলা চালাতে দ্বিধা করবেন না তিনি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, সম্ভবত ইরানে হামলা চালানোর আগে নিজের দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্যই চূড়ান্ত নির্দেশিকা দিয়েছেন ট্রাম্প। যদিও দেশটির অধিকাংশ বিমানসংস্থা উড়ান বন্ধ রেখেছে। ফলে স্থলপথে আর্মেনিয়া এবং তুরস্ক হয়ে ইরান ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে মার্কিন নাগরিকদের। একই পথে ভারতীয়রা ইরান ছাড়তে পারবেন?
