পরমাণু চুক্তি, খামেনেই বিরোধী বিক্ষোভ-সহ একাধিক বিষয়ে ক্রমশ আমেরিকা-ইরান উত্তেজনা (US Iran Tensions) বাড়ছে। এই অবস্থায় মার্কিন জাহাজগুলিকে ইরানের জলসীমা থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে বলল আমেরিকা। উভয় দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে ওয়াশিংটনের এই বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ। প্রশ্ন উঠছে, যুদ্ধ কি আসন্ন?
দীর্ঘ টালবাহানার পর গতকালই আমেরিকার সঙ্গে পরমাণু চুক্তিতে রাজি হয়েছে ইরান! সম্প্রতি এমনই বার্তা দিয়েছেন ইরানের পরমাণু শক্তি সংগঠনের প্রধান মহম্মদ ইসলামি। সোমবার এক বিবৃতি জারি করে তিনি বার্তা দেন, যদি ইরানের উপর থাকা যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয় আমেরিকা তাহলেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ৬০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে রাজি তারা। এই আবহে আমেরিকার জাহাজ চলাচল নিয়ামক সংস্থা ইউএস মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সোমবার একটি নির্দেশিকা জারি করেছে।
মার্কিন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের সময়ে আমেরিকার জাহাজগুলি যেন ইরানের জলসীমা থেকে দূরে থাকে। এছাড়াও জাহাজের ক্যাপ্টেনদের উদ্দেশে বার্তা, তাঁরা যেন ইরানি বাহিনীকে মার্কিন জাহাজে ওঠার অনুমতি না দেন। তবে যদি কোনও কারণে ইরানি বাহিনী আমেরিকার জাহাজে উঠে পড়ে, তবে তাদের জোর করে বাধা না দেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একাধিক মার্কিন বার্তায় উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনার আবহাওয়া স্পষ্ট।
প্রসঙ্গত, ইরান এবং ওমানের মাঝে যে সরু জলপথ রয়েছে, তা হরমুজ প্রণালী নামে পরিচিত। এই পথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরব, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কুয়েত, কাতার, ইরাকের মতো দেশগুলি এই পথ দিয়েই তেল রপ্তানি করে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে রপ্তানি হওয়া তেলের বেশির ভাগই প্রবেশ করে এশিয়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে যদি কোনও অস্থিরতা তৈরি হয়, তাহলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারত-সহ একাধিক রাষ্ট্রে। আমেরিকার সঙ্গে সংঘাতের জেরে বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম ব্যস্ত জলপথ হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া শুরু করছে তেহরান। সাম্প্রতিক এই ঘটনার মাঝে এ বার মার্কিন জাহাজগুলিকে সাবধান করে দিল ইউএস মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন।
