ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুতে আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে পাকিস্তানের জনতা। হামলা চলেছে মার্কিন দূতাবাসে। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে বিক্ষোভ দমন করতে দাঁত-নখ বের করল পাক সেনা। নিজের দেশের জনগণের উপর চলল গুলিবৃষ্টি। এই ঘটনায় অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি আহত হয়েছেন আরও ১২০ জন।
আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় শনিবার মৃত্যু হয় ইরানের সর্বোচ্চ শাসক আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের। এই ঘটনার প্রতিবাদে আমেরিকার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিশ্বের একাধিক দেশ। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পাকিস্তান। আমেরিকার বিরুদ্ধে ক্রুদ্ধ মারমুখী জনতা হামলা চালায় করাচির মার্কিন কনসুলেটে। অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে করাচির মার্কিন দূতাবাস। বিক্ষোভকারীরা ওয়াশিংটন এবং তেল আভিভের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দিতে জড়ো হন। সেখান থেকে কনসুলেটের দিকে এগোতে থাকেন। প্রাথমিকভাবে বিক্ষোভকারীদের হঠাতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। ব্যারিকেড ভেঙে প্রতিবাদীরা এগিয়ে যায় কনসুলেটের দিকে। তাদের আটকাতেই নিরাপত্তারক্ষীরা গুলি চালায়।
সংবাদ সংস্থা এপি সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তান নিরাপত্তাবাহিনীর এলোপাথাড়ি গুলিতে এখনও পর্যন্ত ২২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১২০ জন। যদিও পাকিস্তান বা আমেরিকা-কারওর তরফেই এই হামলা নিয়ে সরকারিভাবে মুখ খোলা হয়নি। সূত্রের খবর, জমায়েত আটকাতে এবং হিংসা রুখতে একাধিক রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে পাক পুলিশ।
জ্বলছে পাকিস্তানের পেশোয়ার, সিন্ধ, পাঞ্জাব প্রদেশের মুলতান-সহ একাধিক জায়গা। লাহোরেও মার্কিন কনসুলেট কাছেও অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। সেখানেও পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষের খবর পাওয়া গিয়েছে। যে কোনও রকম অবাঞ্ছিত পরিস্থিতি কড়া হাতে সামাল দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তাবাহিনীকে। পাকিস্তানে থাকা সমস্ত মার্কিন কনসুলেটের সামনে নিরাপত্তা ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে।
