একদিন আগেই সুর পালটে ইরানের (Iran) আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের সরকারকে উৎখাতের ডাক দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার ট্রাম্পকে পালটা হুমকি দিল তেহরান। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, খামেনেইয়ের উপর কোনও আক্রমণ হলে তা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। অর্থাৎ ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে আমেরিকা (US) যদি কোনও পদক্ষেপ করে, তাহলে যে ছেড়ে কথা বলবে না তেহরান সেই কথাই স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেওয়া হল।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, “ইরানে এখন নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে। খামেনেই দোষী। ইরানকে ধ্বংস করতে তিনি বদ্ধপরিকর। দেশে তিনি হিংসা ছড়াচ্ছেন। হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। ইরানে নেতৃত্ব বদলের সময় এসেছে। এমনকী ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে ‘অসুস্থ’ এবং ‘অযোগ্য’ বলেও তোপ দাগেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর এই মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ট্রাম্পকে পালটা দিল তেহরান।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘যে কোনও ধরনের মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমরা কড়া জবাব দিতে প্রস্তুত। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপর আক্রমণ হলে, তা গোটা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল।’
ইরানে মূল্যবৃদ্ধি, স্বাস্থ্য-শিক্ষা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ব্যর্থতা, কট্টরপন্থী ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক বিদ্রোহ শুরু হয়েছে। ইরানের সরকারি আধিকারিকদের দাবি, গণবিক্ষোভে অন্তত ৫ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কমপক্ষে ৫০০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য়। এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'দ্য টাইমস'-এর একটি রিপোর্টে পালটা দাবি করা হয়েছে, ইরানে মৃতের সংখ্যা পেরিয়েছে ১৬ হাজার। দেশজুড়ে অব্যাহত খামেনেইয়ের দমননীতি। এমনকী দেখা মাত্র প্রতিবাদীদের মাথায় গুলি করা হচ্ছে। একইসঙ্গে রিপোর্টে বলা হয়েছে, খামেনেই সরকার দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাস্ত্র প্রয়োগ করছে।
অন্যদিকে, শনিবার ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন, ইরানে এত মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট। দেশের যাঁরা হিংসা ছড়াচ্ছেন তাঁদের তিনি মহিমান্বিত করছেন। খামেনেই অভিযোগ করেন, দেশে অস্থিরতার জন্য দায়ী ইজরায়েল এবং আমেরিকা। বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীগুলি দেশের সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করছে। ইচ্ছাকৃতভাবে হিংসা ছড়াচ্ছে। তাদের উসকানি দিচ্ছেন তেল আভিভ এবং ওয়াশিংটন। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের উদ্দেশ ফের কড়া বার্তা দিল ইরান। তাহলে কি শীঘ্রই সংঘর্ষে জড়াবে দুই দেশ?
