এবার ভারতীয়দের উপর হামলা ইরানের! জানা গিয়েছে, আমেরিকা-ইজরায়েলের (Israel) সঙ্গে যুদ্ধের (Conflict) আবহেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করা একটি তৈলবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে। ওই জাহাজে ১৫ জন ভারতীয় কর্মী ছিলেন। শনিবার হামলা শুরুর পর থেকেই প্রশ্ন ছিল, হরমুজ প্রণালীতে কি জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে? সরকারিভাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা করেনি ইরান (Iran)। কিন্তু ওই এলাকায় তৈলবাহী জাহাজে হামলা চালাল তারা।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ওই তৈলবাহী জাহাজটি পালাউ নাগরিকের মালিকানাধীন। ওমানের খসাব বন্দর থেকে ৫ নটিক্যাল মাইল দূরে স্কাইলাইট নামে জাহাজটির পাশে আছড়ে পড়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র। ওমানের মেরিটাইম সিকিয়োরিটি সেন্টারের তরফ থেকে জানানো হয়, এই হামলায় চারজন জখম হয়েছেন। তারপর জাহাজের মোট ২০জন কর্মীকে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে ১৫ জনই ভারতীয়। বাকিরা ইরানের নাগরিক। আহত কর্মীদের মধ্যে ভারতীয় কেউ রয়েছেন কিনা, তা এখনও অজানা।
উল্লেখ্য, ইরান এবং ওমানের মাঝে যে সরু জলপথ রয়েছে, তা হরমুজ প্রণালী নামে পরিচিত। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এই পথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরব, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কুয়েত, কাতার, ইরাকের মতো দেশগুলি এই পথ দিয়েই তেল রপ্তানি করে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, রপ্তানি হওয়া তেলের বেশির ভাগই প্রবেশ করে এশিয়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে যদি কোনও অস্থিরতা তৈরি হয়, তাহলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারত-সহ একাধিক দেশে। ভারতের আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশ তেল আসে এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই।
শনিবার আমেরিকা এবং ইজরায়েল একযোগে হামলা চালানোর পর পালটা প্রত্যাঘাত শানিয়েছে ইরান। সেই হামলার আঁচ পড়েছে ওমানেও। রবিবার সেদেশের দুকম বন্দরে আছড়ে পড়েছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। তারপরেই তৈলবাহী জাহাজে হামলা। মাসখানেক আগে ইরান হুমকি দিয়েছিল, আমেরিকা কোনও হামলা চালালে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেবে তারা। তবে সরকারিভাবে সেই ঘোষণা এখনও করেনি তেহরান। কিন্তু হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে চলার ঘোষণা করা হয় ইরানের এক রেডিও সম্প্রচারে। শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে গোটা বিশ্বের বাণিজ্য স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে।
