‘আহত’ ইরানের প্রত্যাঘাতে ভয়ংকর পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্য। আবু ধাবি, দোহা, জেরুজালেম-সহ একাধিক জায়গায় গোলাবর্ষণ শুরু করেছে ইরান। তেল আভিভে বেজে উঠেছে যুদ্ধের সাইরেন। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
সোমবার সকালে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আবু ধাবি, কাতারের রাজধানী দোহা, এবং বাহরিনের রাজধানী মানামাতে পরপর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। গল গল করে বেরোচ্ছে কালো ধোঁয়া। ইরানের (Iran) বহু ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন আকাশেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হলেও সেগুলির ধ্বংসাবশেষ মাটিতেই পড়তেই বিস্ফোরণ ঘটছে এবং জায়গায় জায়গায় আগুন লেগে যাচ্ছে। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড এই হামলাকে ‘বড় আক্রমণ’ বলে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে, ইজরায়েলের জেরুজালেম এবং তেল আভিভেও ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। ইজরায়েলি সেনা দাবি করেছে, ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হচ্ছে। তবে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। বাসিন্দাদের সতর্ক করার জন্য তেল আভিভে বাজছে সাইরেন।
উল্লেখ্য, শনিবার ইরানে হামলা হওয়ার পরই ইজরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে বেপরোয়া হামলা শুরু করে তেহরান। দুপুরের পর দুবাইয়ের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের (Dubai Blast) শব্দ পাওয়া যায়। পাম জুমেইরাহ এলাকায় বিস্ফোরণের কথা নিশ্চিত করেছে সে দেশের প্রশাসন। শুধু তা-ই নয়, বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ইমারত বুর্জ খলিফার কাছেও একাধিক বিস্ফোরণ হয়েছে বলে জানা যায়। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে শনিবারই খালি করে দেওয়া হয় বুর্জ খলিফা। রবিবারও হামলা থামেনি। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, আবুধাবিতে একটি নৌসেনা ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও, কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এহেন পরিস্থিতির মাঝেই এবার ইরানকে সতর্ক করেছে আমিরশাহী। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হুঁশে ফিরুন। আপনার যুদ্ধ সম্পূর্ণ আপনার। প্রতিবেশীদের সঙ্গে নয়।
