সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে নাগরিকদের দুর্দশা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে তা ইতিমধ্যেই জেনেছে দুনিয়ায়। জেনেভা থেকে লন্ডন বা নিউইয়র্ক। সর্বত্র পাক সরকারের মুখোশ খুলে দিয়েছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। এবার পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ন্যূনতম পরিষেবা দিতে পাকিস্তান কতটা অপদার্থ তার আরও একবার প্রমাণ মিলল।
[রাওয়াতের খোঁচায় রক্তাক্ত, ভারতের বিরুদ্ধে পরমাণু যুদ্ধের হুমকি পাকিস্তানের]
পাক অধিকৃত কাশ্মীর বা পিওকে-র মুজফফরবাদ শনিবার দিনভর অশান্ত ছিল। কারণ লাগাতার লোডশেডিং। দীর্ঘ দিন ওই এলাকার বেশি কিছু ট্রান্সফর্মার খারাপ। বারবার প্রশাসনকে জানিয়েও কাজ না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের অসন্তোষ চরমে ওঠে। শনিবার তার বিস্ফোরণ দেখে গোটা দেশ। নিলম উপত্যকায় যাওয়ার জন্য প্রধান সড়ক অবরোধ করা হয়। জ্বালানো হয় টায়ার, এমনকী ওই এলাকার বিদ্যুৎ দপ্তরের অফিসে ভাঙচুর চলে। বিক্ষুব্ধদের হাত থেকে কর্মীরাও রেহাই পাননি। বিক্ষোভের সামনের সারিতে ছিলেন এলাকার ব্যবসায়ীরা। তাদের সাফ কথা, দিনের পর দিন বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের ব্যবসা কার্যত লাটে উঠেছে। পাক প্রধানমন্ত্রী এবং বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন বিক্ষুব্ধরা। শুধু মুজফফরাবাদ নয়, গোটা পাক অধিকৃত কাশ্মীর বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে যত কম কথা বলা যায় ততই ভাল। দিনে চার থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং ওই এলাকার স্বাভাবিক ঘটনা। ভূমিপুত্রদের অভিযোগ তাদের এলাকায় একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থাকলেও অজ্ঞাত কারণে প্রাপ্য বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত করা হয়। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সম্পদকে কার্যত লুট করছে পাক প্রশাসন। বিনিময়ে তাদের অন্ধকারে রাখা হচ্ছে।
[নির্বাচন হবে সরকারের নজরদারিতেই, সাফ কথা হাসিনার]
কয়েক মাস আগে গিলগিট, বালতিস্তানে ভূমিপুত্রদের বিক্ষোভ চরম আকার নিয়েছিল। সেই সময় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার নামে স্থানীয়দের উপর অত্যাচার চালানোর অভিযোগ উঠেছিল। পাক সরকার সেনা নামালেও প্রতিবাদের আগুন ধিকিধিকি করে জ্বলছিল। তারই আঁচ মিলল মুজফফরবাদে। কথায় কথায় জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে নাক গলালেও মুজফফরবাদ নিয়ে অবশ্য কুলুপ এঁটেছে পাক প্রশাসন। স্থানীয়দের ধারণা, সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় আব্বাসি প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে তাদেরকে বিপদে ফেলে রেখেছে।
The post লাগাতার লোডশেডিং, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে তীব্র প্রতিবাদ appeared first on Sangbad Pratidin.
