ইজরায়েল ও লেবাননের (Israel-Lebanon Ceasefire) মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে তা তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন। কিন্তু সেই ঘোষণার পরই মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত জানিয়ে দিলেন, এই যুদ্ধবিরতি ১০০ শতাংশ নয়।
দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে শান্তি বৈঠকে বসতে চলেছে ইজরায়েল ও লেবানন। ৩৪ বছর পর আলোচনায় সম্মত হয়েছে দু’পক্ষ। এই পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউসে একটি বৈঠকে লেবানন ও ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদের ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিয়ো, লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা প্রমুখ। তিনি দাবি করেন, বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, ইরান সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাকে টাকা দেওয়া বন্ধ করলেই শান্তি ফিরবে ওই অঞ্চলে।
আর এহেন ঘোষণার পরই রাষ্ট্রসংঘে ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জানান, পরিস্থিতি কিন্তু ১০০ শতাংশ ঠিক নেই। তবে একথা তিনিও স্বীকার করেছেন, পরিস্থিতির আগের থেকে অনেক উন্নতি হয়েছে। সেই সঙ্গেই জানিয়েছেন, হেজবোল্লা যদি রকেট ছোড়ে তাহলে তাঁরাও জবাব দেবেন। পাশাপাশি তাঁর প্রশ্ন, লেবাননের সরকারের কি আদৌ ক্ষমতা রয়েছে, যুদ্ধবিরতি বা শান্তি চুক্তি সম্পন্ন করার?
ইজরায়েল গঠন হওয়ার পর ১৯৪৮ সাল থেকেই লাগাতার সংঘাত চলছে ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে। দুই দেশের মধ্যে কোনওরকম কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। ১৯৮৩ সালে লেবানন যুদ্ধের পরে মার্কিন মধ্যস্থতায় এই প্রথম দুই দেশের নেতারা বৈঠকে বসতে চলেছেন। যদিও এই বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবোল্লা।
এদিকে ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন তাদের প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হয়েছে। ইরান হরমুজ খুলে দেওয়া সত্ত্বেও আমেরিকা ওই জলপথে অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যতক্ষণ না পর্যন্ত ইরানগামী সমস্ত জাহাজের অবাধ চলাচল আমেরিকা নিশ্চিত করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত হরমুজ বন্ধই থাকবে। যদিও বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটন এখনও মুখ খোলেনি।
