গ্র্যামির মঞ্চে পুরস্কৃত হয়েছেন আধ্যাত্মিক জগতের আইকন দলাই লামা। তারপরই ক্ষুদ্ধ বেজিং। তাদের দাবি, দলাই লামা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে ব্যবহার করে ধর্মের আড়ালে চিন-বিরোধী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন। একইসঙ্গে বৌদ্ধ ধর্মগুরুকে ‘পলাতক রাজনীতিক’ বলেও কটাক্ষ করেছে বেজিং।
‘মেডিটেশন: দ্য রিফ্লেকশনস অফ হিজ হোলিনেস দ্য দলাই লামা’র জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন নবতিপর দলাই লামা। ৬৮ তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের মঞ্চে ‘সেরা অডিয়ো বুক’ বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছে তাঁর এই অ্যালবামটি। তবে তিনি মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন না। তাই তাঁর হয়ে পুরস্কার নেন সঙ্গীতশিল্পী রুফাস ওয়েনরাইট। এই বিভাগে প্রতিযোগিতা যে খুব সহজ ছিল তেমন মোটেও নয়। মনোনীতদের তালিকায় ছিলেন গ্র্যামির সঞ্চালক ট্রেভর নোয়া, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কেটানজি ব্রাউন জ্যাকসন, মিলি ভানিলির, ফ্যাব মরভ্যান। সকলকে টেক্কা দিয়ে সেরার শিরোপা ছিনিয়ে নিয়েছেন বৌদ্ধ ধর্মগুরু।
‘মেডিটেশন: দ্য রিফ্লেকশনস অফ হিজ হোলিনেস দ্য দলাই লামা’র জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন নবতিপর দলাই লামা। ৬৮ তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের মঞ্চে ‘সেরা অডিয়ো বুক’ বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছে তাঁর এই অ্যালবামটি।
দলাই লামার পুরস্কার প্রাপ্তির বিরোধিতা করে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে চিন। সোমবার চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়ানকে এবিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, “দালাই লামা কোনও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব নন। তিনি ধর্মের আড়ালে চিন-বিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি একজন পলাতক রাজনীতিক।”
তিব্বতের হানাদার চিনা বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে ১৯৫৯ সালের রাতে ২৩ বছরের এক যুবাপুরুষ পাহাড়ের দুর্গমতাকে অগ্রাহ্য করে এগিয়ে গিয়েছিলেন ভারতের উদ্দেশে। তাঁর নাম তেনজিন গিয়াতসো। কিন্তু সকলের কাছে সেই নাম নয়, তাঁর পরিচিতি দলাই লামা হিসাবে।
উল্লেখ্য, তিব্বতের হানাদার চিনা বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে ১৯৫৯ সালের রাতে ২৩ বছরের এক যুবাপুরুষ পাহাড়ের দুর্গমতাকে অগ্রাহ্য করে এগিয়ে গিয়েছিলেন ভারতের উদ্দেশে। তাঁর নাম তেনজিন গিয়াতসো। কিন্তু সকলের কাছে সেই নাম নয়, তাঁর পরিচিতি দলাই লামা হিসাবে। চতুর্দশ দলাই লামা। সেই যে ভারতে এলেন তিনি এরপর থেকে এদেশই তাঁকে নিজের করে নিয়েছে। তাঁকে নিয়ে ভারতের সঙ্গে চিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলেছে। দুই দেশের এই টানাপোড়েনের মাত্রা যে এতটুকু কমেনি তা বারবার প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। দলাই লামাকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ বলেই মনে করে বেজিং। বর্ষীয়ান ধর্মগুরু নিজের দেশ নয়, বারবার ভারতের প্রতিই কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করেছেন। কিন্তু দলাই লামার পাশে রয়েছে ভারত। গত কয়েক দশকের মতোই। ফলে কূটনৈতিক চাপ তৈরি করলেও তাদের যে হারতেই হবে তা-ও ভালোই বুঝছে বেজিং। দলাই লামা ও ভারত আজ এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম। চিনা 'রক্তচক্ষু'রও সাধ্য নেই সেখানে কোনও প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
