শেষ হতে চলেছে বিশ্বের বাজারে মার্কিন ডলারের একাধিপত্য! এবার সরাসরি এমনই বার্তা দিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তাঁর দাবি, ডলার নয় এবার চিনা মুদ্রা ইউয়ানই হয়ে উঠবে বৈশ্বিক মুদ্রা। জিনপিংয়ের এহেন দাবি সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে কূটনৈতিক মহলে। বলার অপেক্ষা রাখে না চিনের এহেন দাবিতে আমেরিকার ঘুম ছোটাতে চলেছে।
সম্প্রতি এক ভাষণে চিনের প্রেসিডেন্ট বলেন, "অর্থনৈতিকভাবে মহাশক্তিধর হতে গেলে এমন একটি মুদ্রার প্রয়োজন যার উপর বিশ্ব ভরসা রাখতে পারে এবং সেই মুদ্রার ব্যপক ব্যবহার করতে পারে। চিন এমনই একটি শক্তিশালী মুদ্রা তৈরির পরিকল্পনা করছে। এই মুদ্রা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে পারে। যা 'গ্লোবাল রিজার্ভ' হিসেবে সহজে ব্যবহার করা যায়।" জিনপিংয়ের দাবি অনুযায়ী, চিনের মুদ্রা ইউয়ানকে এতটাই শক্তিশালী মুদ্রা হিসেবে গড়ে তোলা হবে যাতে অন্য দেশ এটিকে 'গ্লোবাল রিজার্ভ' হিসেবে ব্যবহার করে।
অর্থনৈতিকভাবে মহাশক্তিধর হতে গেলে এমন একটি মুদ্রার প্রয়োজন যার উপর বিশ্ব ভরসা রাখতে পারে এবং সেই মুদ্রার ব্যপক ব্যবহার করতে পারে। চিন এমনই একটি শক্তিশালী মুদ্রা তৈরির পরিকল্পনা করছে।
জানা যাচ্ছে, এই ভাষণ শনিবার প্রকাশ করেছে চিনের কমিউনিস্ট জার্নাল 'কিউশি'। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, জিনপিং এই বক্তব্য রেখেছিলেন ২০২৪ সালে। সেই ভাষণ এখন প্রকাশ করার নেপথ্যে বড়সড় কূটনৈতিক চাল দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। তাঁদের মতে, যুদ্ধবিধ্বস্ত বিশ্ব এখন অস্থিরতার চরম পর্যায়ে। মার্কিন শুল্কের জেরে নাজেহাল বেশিরভাগ দেশ। এর উপর আমেরিকার দাদাগিরি মাত্রাছাড়া আকার নিয়েছে। আমেরিকার বিরোধিতা করলে ডলারকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞা চাপানো সাধারণ ঘটনা হয়ে উঠেছে।
আমেরিকার এহেন গা-জোয়ারি বন্ধ করতে সম্প্রতি প্রস্তাব উঠেছে 'ব্রিকস' মুদ্রার। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন আমেরিকা। স্পষ্টভাষায় হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে ভারত, চিন, রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন 'ব্রিকস' যদি এমন কোনও মুদ্রা প্রকাশ করে তবে এই গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে। মার্কিন হুঁশিয়ারিকে নিয়ে মুখে কিছু না বললেও শোনা যাচ্ছে ডলারের বিকল্প হিসেবে ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম চালু করবে ব্রিকস। এই জল্পনার মাঝেই জিনপিংয়ের এহেন মন্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে মোটেই খুশি হবেন না তা বলাই বাহুল্য।
