পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি বৈঠক শিকেয় উঠেছে। হরমুজকে কেন্দ্র করে ফের সম্মুখ সমরে ইরান ও আমেরিকা। ভয়ংকর যুদ্ধের প্রমাদ গুনছে মধ্যপ্রাচ্য। এহেন পরিস্থিতিতেই আমেরিকার উপর তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠল মিত্র দেশ সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। আমেরিকাকে তোপ দেগে আমিরশাহীর কমেন্টেটর আবদুল খালেক আবদুল্লা জানালেন, আমেরিকা আমাদের কোনও সাহায্যে আসেনি। ওদের আর প্রয়োজন নেই। দেশের সমস্ত মার্কিন সেনাঘাঁটি বন্ধ করা হোক।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা ও ইজরায়েল। ভয়াবহ সেই যুদ্ধের আগুন মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে। ইরানের মারে নাজেহাল অবস্থা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত এবং বাহরিনের মতো দেশগুলি। এই সমস্ত দেশের তেল ও গ্যাসের সমস্ত ঘাঁটি কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে। সবকটি দেশেই রয়েছে আমেরিকার সেনাঘাঁটি। বিপুল সামরিক ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশগুলিকে রক্ষা করতে পারেনি আমেরিকা। যার জেরেই আমেরিকার বিরুদ্ধে কড়া সুরে আবদুল্লা জানালেন, 'সময় হয়েছে এখানকার সমস্ত মার্কিন সেনাঘাঁটি বন্ধ করার। এই ঘাঁটিগুলি সামরিক সম্পত্তি নয় বরং বোঝা হয়ে উঠেছে।'
আমেরিকার বিরুদ্ধে কড়া সুরে আবদুল্লা জানালেন, 'সময় হয়েছে এখানকার সমস্ত মার্কিন সেনাঘাঁটি বন্ধ করার। এই ঘাঁটিগুলি সামরিক সম্পত্তি নয় বরং বোঝা হয়ে উঠেছে।'
এক্স হ্যান্ডেলে আমেরিকাকে দুষে আবদুল্লা লেখেন, 'আমিরশাহীর নিরাপত্তার জন্য আমেরিকার কোনও প্রয়োজন নেই। ইরানের হামলার সময় এটা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে যে আমরা যথেষ্ট ভালোভাবে আত্মরক্ষা করতে পারি। ফলে দেশের নিরাপত্তার জন্য আমাদের আর আমেরিকার উপর নির্ভরশীল থাকার দরকার নেই।' এরপরই তিনি লেখেন, 'এদেশের মাটিতে ওদের (আমেরিকার) সমস্ত সেনাঘাঁটি এবার বন্ধ করা উচিত। আমিরশাহীর উচিত কারও উপর নির্ভরশীল না থেকে নিজেদের সেনাকে শক্তিশালী করা।'
উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধে আমেরিকার উপর রীতিমতো ক্ষুব্ধ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি। তাদের অভিযোগ, আমেরিকা ইরানে হামলা চালানোর আগে তাদের জানাতে পারত, যাতে তারা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে পারে। কিন্তু আমেরিকা ওরা সেটা করেনি। অতর্কিত হামলার পরই আরব আমিরশাহী-সহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে বেপরোয়া হামলা চালায় ইরান। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় তছনছ হয় দেশটি। আমেরিকা তাদের রক্ষা করতে পারেনি। এই হামলায় বিপুল আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বহু মানুষের প্রাণহানিও ঘটিয়েছে।
