গুড ফ্রাইডের দিন ভেঙে পড়েছিল দু'টি মার্কিন যুদ্ধবিমান। আর এই ঘটনায় নাকি ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প! হোয়াইট হাউসের ওয়ার রুমে তিনি প্রবল চেঁচামেচি শুরু করেন। পরিস্থিতি এমনই দাঁড়ায় সুকৌশলে ট্রাম্পকে সেখান থেকে বের করে দেন বাকিরা। 'দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল' নামের মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি এমনই।
জানা গিয়েছে, বিমান দু'টি ভেঙে পড়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই খবর পান ট্রাম্প। আর উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। জানতে পারেন দুই মার্কিন বিমান চালক নিখোঁজ। সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্দেশ দেন, ''এখনই ওদের উদ্ধার করতে হবে।'' ওয়ার রুমে উপস্থিত বাকিরা বুঝতে পারছিলেন, এখনই কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না। কেননা দীর্ঘদিন ইরানের ভিতরে কোনও অভিযান চালায়নি আমেরিকা। পাশাপাশি ভিতরে প্রবেশ করে ধরা না পড়াটাও চ্যালেঞ্জ। কাজেই সব পদক্ষেপ বুঝেশুনে করতে হবে। কিন্তু নাছোড়বান্দা ট্রাম্পকে সেসব বোঝানো দায় হয়ে উঠেছিল। যদিও তাঁকে সেখান থেকে সরানোর পর দ্রুত পরিকল্পনা সারা সম্ভব হয়।
আসলে ট্রাম্পের আশঙ্কা ছিল অন্য। ১৯৭৯ সালে এক মার্কিন সেনা ইরানের হাতে বন্দি হওয়ার ঘটনায় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার বেকায়দায় পড়েন। এই পরিস্থিতিকে গত মার্চেই 'রাজনৈতিক দুর্ঘটনা' বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তাঁর ভয় ছিল, কোনও মার্কিন পাইলট যদি ইরানি সেনার হাতে বন্দি হয়ে যান, তাহলে এর রাজনৈতিক মূল্য চোকাতেহতে পারে ট্রাম্পকে। পরে খবর মেলে একজনকে উদ্ধার করা গিয়েছে। কিন্তু অন্য পাইলটকে উদ্ধার করা সম্ভব হয় প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরে। হাঁফ ছাড়েন ট্রাম্প। নতুন করে আরও বেশি আক্রমণাত্মক হওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
যদিও বিমান ভেঙে পড়ার বিষয়টি ট্রাম্প লঘু করে দেখাতে চাইছিলেন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁকে যখন জিজ্ঞেস করা হয় যে ঘটনাগুলি যুদ্ধবিরতির আলোচনার উপরে কোনও প্রভাব ফেলবে কি না, তখন তিনি বলেন, “না, একদমই না। এটা একটা যুদ্ধ।” কিন্তু আসলে তিনি কতটা উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন তা স্পষ্ট হল সাম্প্রতিক রিপোর্টে।
