যত সময় যাচ্ছে, ততই ভয়াল রূপ ধারণ করছে ইবোলা। রবিবার কঙ্গোয় একদিনে ৭২ জন সংক্রমিত হল। সব মিলিয়ে সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৮২। মৃত ১৮১। নতুন করে মৃত্যু হয়েছে ৩২ জনের।
গত ১৫ মে প্রথমবার কঙ্গোয় ইবোলা সংক্রমণের কথা জানা গিয়েছিল। একমাসের মধ্যে সেখানকার ছবিটা ক্রমশ ভীতিপ্রদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা, সংস্পর্শের শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসার বিষয়টি আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি আফ্রিকার শীর্ষ স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, তারাও পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। সক্রিয় সংক্রমণের অনুসন্ধান করার পাশাপাশি রোগের প্রাদুর্ভাবের দিকটিও দেখা হচ্ছে। ‘আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’-এর প্রধান জঁ কাসেয়া বলেছেন, “সংক্রমণ না থামা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলিকে সহায়তায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সম্পদ ও অর্থ সংগ্রহের জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।”
বলে রাখা ভালো, কঙ্গো ও উগান্ডার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আপাতত সংক্রমণ সীমাবদ্ধ থাকলেও পরিস্থিতিকে হালকাভাবে দেখার কোনও সুযোগ নেই। আফ্রিকার এই অঞ্চল দীর্ঘ দিন ধরেই সংঘাত, গৃহহীন দশা এবং দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থায় জর্জরিত। যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির আবহে বহু সংক্রমণ শনাক্ত না-হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। হু-র তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে ইতিমধ্যেই একাধিক নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন সংক্রমণ এবং মৃত্যুর খবর মিলেছে। রাজধানী কাম্পালাতেও পৃথক সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যার মধ্যে পারস্পরিক যোগসূত্র এখনও পাওয়া যায়নি। বলে রাখা ভালো, ১৫ মে সরকারি ঘোষণায় জানানো হয় ইবোলার ‘বুন্ডিবুগিও স্ট্রেন’ ছড়িয়ে পড়েছে কঙ্গোয়। যদিও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি, কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই সংক্রমণ বাড়ছে। সেই সংক্রমণ বাড়তে বাড়তে এখন আতঙ্কের অপর নাম হয়ে উঠেছে। বিষয়টি আফ্রিকায় হলেও, গোটা পৃথিবীই আতঙ্কে রয়েছে। ইবোলা সংক্রমণ যাতে অন্য দেশে না দেখা দেয়, সেবিষয়ে সতর্ক সকলেই।
