ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধের জেরে কেবল প্রায় হাজার তিনেক মানুষের মৃত্যুই হয়নি, পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায় জ্বালানি সংকটে গোটা বিশ্ব। প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। এর পরেও যুদ্ধ থামাতে রাজি নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সূত্রের খবর, যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্পের কাছে দরবার করেছে পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশ। কিন্তু কোনও আলোচনাতেই আগ্রহী নন তিনি। উলটে ইরানের সামরিক কাঠামোকে ধ্বংস করতে নিজের দেশের সেনা বাহিনীকে একের পর এক নির্দেশ দিয়ে চলেছেন ট্রাম্প। অপরপক্ষে ইরান আগেই জানিয়েছে, আমেরিকা ও ইজরায়েল হামলা চালিয়ে গেলে তারাও প্রতিশোধ নেবে। এই অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার সম্ভাবনা দেখছেন না সমর বিশেষজ্ঞরা।
সংবাদসংস্থা রয়টার্সের দাবি, যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ওমান এবং মিশর। এমনকী এই বিষয়ে একাধিকবার হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা। যদিও তাদের প্রস্তাব শুনতেই চাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, আপাতত মধ্যস্থতায় আগ্রহী নন ট্রাম্প। বরং পেন্টাগনের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ইরানকে নাস্তানাবুদ করতে নতুন নতুন কৌশল বের করতে ব্যস্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রিয়ারি ইরানের মাটিতে যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে তেহরান-সহ ইরানের একাধিক অঞ্চল। হামলায় মৃত্যু হয়েছে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর। জবাবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকার একাধিক সেনাঘাঁটি ও ইজরায়েলে হামলা চালাচ্ছে ইরান। কুয়েত, বাহরিন, ওমান, জর্ডন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুরস্কের উপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। যুদ্ধে ইরানে মৃতের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়েছে। মিশর ও ওমানের মতো সরাসরি না হলেও এর আগে পরোক্ষে শান্তিপ্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া, চিন, স্পেন, ভারত-সহ একাধিক দেশও। যদিও কোনও পক্ষই যুদ্ধ থেকে সরতে রাজি নয়।
