গাজায় শান্তি ফেরাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডাকে সাড়া দিল না ভারত! বৃহস্পতিবার দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে আনুষ্ঠানিক ভাবে গাজার জন্য প্রস্তাবিত 'বোর্ড অফ পিস' ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু সেই মঞ্চে ছিলেন না ভারতের প্রতিনিধি। তবে ট্রাম্পের একেবারে পাশে গিয়ে বসেছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তবে কেবল ভারত নয়, পশ্চিম ইউরোপের একাধিক দেশও ট্রাম্পের এই ডাকে সাড়া দেয়নি।
হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, গাজায় শান্তি স্থাপনের জন্য প্রস্তাবিত 'বোর্ড অফ পিসে' অংশ নেওয়ার জন্য ভারতকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে আমেরিকা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে এই আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই চিঠিতে লেখা ছিল, 'মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করতে চলেছি। সেই পদক্ষেপে ভারতকে আমন্ত্রণ জানাতে পেরে আমি খুবই সম্মানিত। বোর্ড অফ পিসের মাধ্য়মে বিশ্বের যাবতীয় দ্বন্দ্ব মেটানোর ক্ষেত্রে এক নতুন যাত্রার সূচনা হবে।'
ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ভারত অবশ্য সাড়া দিল না। বৃহস্পতিবার দাভোসে বোর্ড অফ পিসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সময়ে ৩৫টি দেশের প্রতিনিধিরা হাজির থাকবেন বলে জানিয়েছিল আমেরিকা। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা খুবই কম। এদিন ট্রাম্পের সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন বাহরাইন, মরক্কো, আর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, পাকিস্তান, প্যারাগুয়ে, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, তুরস্ক, উজবেকিস্তান এবং মঙ্গোলিয়ার প্রতিনিধিরা।পশ্চিম ইউরোপের একাধিক মহাশক্তিধর দেশ যেমন ব্রিটেন, ইটালি, জার্মানিরাও এই প্রস্তাব প্রতাখ্যান করেছে।
তবে পহেলগাঁও হামলা এবং অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে আমেরিকার সঙ্গে পাকিস্তানের সখ্য বেড়েছে, তার প্রমাণ মিলল বৃহস্পতিবার দাভোসের মঞ্চে। ট্রাম্পের একেবারে পাশে আসনে বসেছিলেন শাহবাজ। মাঝেমাঝে কথাও বলতে দেখা গিয়েছে দুই রাষ্ট্রপ্রধানকে। উল্লেখ্য, গাজায় শান্তি রক্ষায় গত বছরের নভেম্বর মাসে এই ‘বোর্ড অফ পিস’কে অনুমোদন দিয়েছিল রাষ্ট্রসংঘ। প্রস্তাব অনুযায়ী ২০২৭ সাল পর্যন্ত এই বোর্ডের মেয়াদ ও এর কাজ হবে শুধুমাত্র গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা। প্রসঙ্গত, ট্রাম্প বলেছেন ভবিষ্যতে রাষ্ট্রসংঘের জায়গা নিতে পারে এই বোর্ড। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এহেন বয়ান সামনে আসার পর স্বাভাবিকভবেই শোরগোল শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। বরাবরের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই কি ট্রাম্পের বোর্ড থেকে সরে দাঁড়াল ভারত?
