দ্বিতীয়বার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর প্রথমবার চিনে সফরে ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে যোগ দিতে বুধবার বেজিংয়ে পৌঁছলেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এই সফরে রয়েছেন মার্কিন মুলুকের একদল ধনকুবের ব্যবসায়ী। ইরান সংঘাতের মধ্যে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তির মুখোমুখি বৈঠকের দিকে নজর রয়েছে গোটা বিশ্বের।
ট্রাম্পের সঙ্গে চিন সফরে রয়েছেন এলন মাস্ক এবং জেনসেন হুয়াংয়ের মতো ধনকুবের পুঁজিপতি। সূত্রের খবর, আমেরিকার বাণিজ্যিক সাফল্য নিশ্চিত করতে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সরবরাহে শৃঙ্খলা আনতে (যা বর্তমানে ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ অবরুদ্ধ হওয়া জন্য বিঘ্নিত) কথা হবে দুই দেশের মধ্যে। বেজিং বিমানবন্দরে ট্রাম্পকে স্বাগত জানান চিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং। সঙ্গে ছিলেন চিনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ, আমেরিকায় নিযুক্ত চিনের রাষ্ট্রদূত শি ফেং এবং চিনের নির্বাহী উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মা ঝাওশু।
বিমান থেকে নামতেই অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে সামরিক সম্মান জানানো হয় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। রেড কার্পেটে চিনা সেনার ব্যান্ড এবং নীল-সাদা ইউনিফর্ম পরা প্রায় ৩০০ চিনা যুবক স্বাগত জানায় ট্রাম্পকে। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন প্রেসিটেন্টের সঙ্গে দেখা করবেন জিনপিং। মনে করা হচ্ছে, দুই রাষ্ট্রনেতার হাই প্রোফাইল বৈঠকে কথা হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের গতিপ্রকৃতি নিয়ে। উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের হরমুজ অবরুদ্ধ জ্বালানি সংকট বাড়ছে। তার প্রভাব পড়ছে গোটা বিশ্বে। এই অবস্থায় 'ইরান-মিত্র' চিনের সঙ্গে বৈঠক সেরে কী বার্তা দেন ট্রাম্প, সেটাই এখন দেখার।
প্রসঙ্গত, গত মার্চেই ট্রাম্পের চিন সফর নির্ধারিত ছিল। তবে ইরান যুদ্ধের কারণে তা পিছিয়ে যায়। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারে বারে বেজিংয়ের যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বার্তা দেন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি'র সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব মুখোমুখি বৈঠকে বসতে চান। উল্লেখ্য, ১৩ থেকে ১৫ মে তিন দিন চিন সফর করবেন ট্রাম্প। সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, ইরান পরিস্থিতি এবং দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
