নেপালে ভ্রমণকারী ভারতীয় পর্যটকদের উপর নয়া বিধিনিষেধের জল্পনা ওড়াল নেপাল সরকার। মাঝে খবর ছড়ায় ভারতীয় পর্যটকের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিবেশী দেশটি। সেই কারণেই তাঁদের উপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যদিও বুধবার এই সংবাদকে 'ভিত্তিহীন' বলল প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক এবং নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নেপালে ভারতীয় দর্শনার্থীদের ভ্রমণ বিধিমালা বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর এবং ভ্রান্ত তথ্যের বিষয়ে বোর্ড গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। নেপাল-ভারত সীমান্ত ডিঙোতে ভারতীয়দের জন্য বাধ্যতামূলক পরিচয়পত্র, ভারতীয় পর্যটকরা সেদেশে সর্বোচ্চ ৩০ দিন থাকতে পারবেন। অতিরিক্ত সময় থাকলে যানবাহন বাজেয়াপ্ত করা হবে, নেপাল সরকার এমন নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বলে দাবি করা প্রতিবেদনগুলি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর।"
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, ভারতীয় পর্যটকদের সেদেশে থাকার সময়সীমা নিয়ে কোনও নির্দেশিকা জারি করেনি নেপাল সরকার। কোনও নতুন নীতি চালু করেনি। নেপাল-ভারতের মধ্যে উন্মুক্ত সীমান্ত ব্যবস্থা ও দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়ায় কোনও পরিবর্তনও আনা হয়নি। দুই দেশের মানুষের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক বন্ধন এবং পর্যটন সহযোগিতা অপরিবর্তিত রয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত যানবাহনে স্থলপথে নেপালে প্রবেশকারী ভারতীয় পর্যটক এবং আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীদের ভ্রমণকে আরও সুবিধাজনক করে তোলা হয়েছে। এখন থেকে অনলাইনে যানবাহানের শুল্ক পরিশোধ করা যাবে এবং সেই মতো প্রবেশপত্রও মিলবে।
প্রসঙ্গত, গত এপ্রিল মাসে নেপালে ভারতীয়দের প্রবেশে একাধিক নতুন নিয়ম সামনে আসে। সীমানায় পা রাখলেই সবার আগে গাড়ি নথিভুক্ত করতে হবে। সঙ্গে রাখতে হবে বৈধ পারমিট। বছরে ৩০ দিনের বেশি ভারতীয় গাড়ি নেপালের রাস্তায় রাখা যাবে না। প্রতিদিনের জন্য গুনতে হবে মাশুল। একটুও ভুলচুক হলে গাড়ি বাজেয়াপ্ত করবে প্রশাসন। এমনকী নিয়ম ভাঙার অপরাধে আপনার প্রিয় গাড়িটি চিরতরে খোয়া যেতে পারে। খবর ছড়ায় যে নেপাল সরকার জানিয়ে দিয়েছে, ১০০ নেপালি মুদ্রার (ভারতীয় মূল্যে যা প্রায় ৬২ টাকা) বেশি কেনাকাটা করলেই দিতে হবে কাস্টমস ডিউটি। পণ্যের ধরন অনুযায়ী ৫ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানো হতে পারে।
