shono
Advertisement
Ayatollah Ali Khamenei

নিজের দপ্তরেই ছিলেন খামেনেই, কীভাবে জানল মোসাদ? ‘দাঁতের ডাক্তার’দের অভিনব ছকেই কেল্লাফতে!

খামেনেইকে হত্যার কয়েকমাস আগে থেকে মোসাদ ইরানে গোপন সাইবার হামলাও চালায় বলে অভিযোগ। ইরানের বিভিন্ন ট্রাফিক ক্যামেরা এবং সিসিটিভি ক্যামেরা হ্যাক করে নেওয়া হয়। নজরদারি চালানো হয় খামেনেই-ঘনিষ্ঠদের উপর। ইরানের সুপ্রিম লিডারকে হত্যার নিখুঁত পরিকল্পনায় সঙ্গী ছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সিও (সিআইএ)।
Published By: Subhodeep MullickPosted: 07:08 PM Mar 04, 2026Updated: 08:58 PM Mar 04, 2026

ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের (Ayatollah Ali Khamenei) মৃত্যুর পর থেকেই অন্তর্ঘাত তত্ত্ব প্রকট হয়েছিল। এবার প্রকাশ্যে এল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। খামেনেইকে হত্যার নীল নকশার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল বছর খানেক আগে থেকেই। সৌজন্যে ইজরায়েলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ। খামেনেইয়ের ঘনিষ্ঠবৃত্তের পরতে পরতে চর ঢুকিয়ে দিয়েছিল তারা। শুধু তাই নয়, দাঁতের ডাক্তার সেজে সেই চরেরাই খামেনেই-ঘনিষ্ঠদের দাঁতে ‘ট্র্যাকিং চিপ’ লাগিয়ে দিয়েছিল! যাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়।

Advertisement

ঠিক কীভাবে মোসাদ এই গুপ্ত অভিযান চালিয়েছিল? সূত্রের খবর, ইরানের সেনা আধিকারিক থেকে শুরু করে খামেনেই ঘনিষ্ঠ সমস্ত ব্যক্তি, যাঁদের দাঁতের সমস্যা রয়েছে প্রাথমিকভাবে তাদেরকেই নিশানা করেছিল মোসাদ। ইজরায়েলের গুপ্তচর সংস্থার আধিকারিকরা দাঁতের ডাক্তার সেজে ইরান সেনা এবং সরকারের সেই সমস্ত আধিকারিকদের চিকিৎসা করেছিলেন। আর তখনই গোপনে তাঁদের দাঁতে ‘ট্র্যাকিং চিপ’ লাগিয়ে দিয়েছিলেন তাঁরা। মোসাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল, ওই সমস্ত আধিকারিকদের উপর ক্রমাগত নজরদারি চালিয়ে খামেনেইয়ের আস্তানার ঠিকানা পাওয়া। যাতে সহজে ইরানের সুপ্রিম লিডারকে খতম করা যায়।

ইরানের সেনা আধিকারিক থেকে শুরু করে খামেনেই ঘনিষ্ঠ সমস্ত ব্যক্তি, যাঁদের দাঁতের সমস্যা রয়েছে প্রাথমিকভাবে তাদেরকেই নিশানা করেছিল মোসাদ।

তবে শুধু দাঁতের ডাক্তার নয়। ইরানে যাঁরা পেটের রোগের চিকিৎসা করেন, সেই চিকিৎসক গোষ্ঠীর অন্দরেও ছড়িয়ে পড়েছিল মোসাদের জাল। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে খামেনেই-ঘনিষ্ঠদের পেটের ভিতরে লাগানো হয় ‘বিশেষ ট্র্যাকিং চিপ’। এভাবেই খামেনেইয়ের পাশাপাশি ইরানের সুপ্রিম লিডারের পরিবারেরও খোঁজ পেয়েছিল মোসাদ। সূত্রের খবর, শনিবার খামেনেইয়ের দপ্তরে যে বৈঠকটি হয়েছিল, সেখানে যে আধিকারিকরা উপস্থিত হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে ওই বিশেষ 'ট্র্যাকিং চিপ' ছিল। তাঁদের মাধ্যমেই মোসাদ জেনে যায় যে নিজের দপ্তরেই রয়েছে খামেনেই। তারপরই চূড়ান্ত করা হয় হামলার প্রস্তুতি। 

এদিকে খামেনেইকে হত্যার কয়েকমাস আগে থেকে মোসাদ ইরানে গোপন সাইবার হামলাও চালায় বলে অভিযোগ। ইরানের বিভিন্ন ট্রাফিক ক্যামেরা এবং সিসিটিভি ক্যামেরা হ্যাক করে নেওয়া হয়। নজরদারি চালানো হয় খামেনেই-ঘনিষ্ঠদের উপর। ইরানের সুপ্রিম লিডারকে হত্যার নিখুঁত পরিকল্পনায় সঙ্গী ছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সিও (সিআইএ)। খামেনেইয়ের দপ্তরের আশপাশে থাকা বেশ কিছু সিকিউরিটি ক্যামেরাও নাকি হ্যাক করা হয় বলে সূত্রের খবর।

খামেনেইকে হত্যার কয়েকমাস আগে থেকে মোসাদ ইরানে গোপন সাইবার হামলাও চালায় বলে অভিযোগ। ইরানের বিভিন্ন ট্রাফিক ক্যামেরা এবং সিসিটিভি ক্যামেরা হ্যাক করে নেওয়া হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলায় মৃত্যু হয় খামেনেইয়ের। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের বক্তব্য, সাধারণত এধরনের হামলা রাতের অন্ধকারে চালানো হয়। কিন্তু খামেনেইয়ের অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেতেই আর দেরি করেনি মোসাদ। তৎক্ষণাৎ ইরানের সুপ্রিম লিডারকে হত্যা করতে তৎপর হয় দুই দেশ।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement