ভারত মহাসাগরে ইরানি যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনাই (US Stuck Iranian Warship)। বুধবার সরকারি ভাবে একথা জানিয়েছেন আমেরিকার প্রতিরক্ষা সচিব পিটার হেগসেথ। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ভারত মহাসাগরে ওত পেতে থাকা তাদের একটি ডুবোজাহাজই ইরানের ওই যুদ্ধজাহাজে হামলা চালায়। পরে সেটিকে উদ্ধার করে শ্রীলঙ্কার নৌ এবং বায়ুসেনা। শ্রীলঙ্কার বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ওই যুদ্ধজাহাজে থাকা ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার শ্রীলঙ্কার উপকূল থেকে ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএনএস ডেনা’-এর উপর হামলা চালায় মার্কিন ডুবোজাহাজ। ডুবন্ত অবস্থাতেই জাহাজটির নাবিকেরা বার্তা পাঠান। সেই মতো শ্রীলঙ্কার নৌসেনা উদ্ধারে যায়। পরে জানা গিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি বঙ্গোপসাগরে এসেছিল ইরানি যুদ্ধজাহাজটি। সেখানে ভারতের নৌসেনার সঙ্গে যৌথ মহড়ায় অংশ সেটি। তার পর সেটির গন্তব্য হয় বিশাখাপত্তনম। পরে সেখান থেকে সেটি ইরানের উদ্দেশে রওনা দেয়। যুদ্ধজাহাজটির উপর হামলা হয় সেই সময়েই।
প্রসঙ্গত, পঞ্চম দিনেও ধুন্ধুমার যুদ্ধের সাক্ষী গোটা মধ্যপ্রাচ্য। নতুন করে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। যদিও বিপদ ঘটানোর আগেই ড্রোনটিকে গুলি করে নামানো হয়েছে। কেউ হতাহত হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। ইরাকের পাশাপাশি প্রতিবেশী কুয়েত, সৌদি আরব, আরব আমিরশাহী, বাহরিন, ওমান, জর্ডনে নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে ইরান। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ক্রমশ বন্ধু রাষ্ট্রগুলিকেও শত্রুতে পরিণত করছে তেহরান। ইতিমধ্যে সৌদি আরব পালটা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
অন্যদিকে ইরানে লাগাতার হামলা চালাচ্ছে ইজরায়েল ও আমেরিকাও। দেশটির নিরাপত্তা সংক্রান্ত দপ্তর এবং একটি মিশাইল লঞ্চার গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইজরায়েল। যুদ্ধে শুধু ইরানেই এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে এক হাজারের বেশি মানুষের। তথ্য বলছে, গত পাঁচদিন ইরান ৫০০ ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ২০০০ ড্রোন হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরানে ২০০০-এর বেশি টার্গেটে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা ও ইজরায়েল।
