shono
Advertisement
Donald Trum

'গ্রহণযোগ্য নয়, ওরা যুদ্ধে হেরেছে', ইরানের শান্তি প্রস্তাব ওড়ালেন ট্রাম্প, পালটা ফুঁসছে তেহরান

এদিকে প্রস্তাব খারিজ করায় আমেরিকাকে পালটা হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরান বলেছে, আমেরিকার যে কোনও নতুন হামলার পালটা জবাব দিতে তারা পিছপা হবে না। এছাড়াও হরমুজ প্রণালীতে বিদেশি যুদ্ধজাহাজের প্রবেশ বরদাস্ত করবে না বলেও জানিয়েছে তারা।
Published By: Kishore GhoshPosted: 08:50 AM May 11, 2026Updated: 09:25 AM May 11, 2026

ফের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ডের ট্রাম্পের মন্তব্যে ইরান-আমেরিকা সংঘর্ষ বিরতি বিশ বাঁও জলে। মাঝে ১৪ দফা শান্তিপ্রস্তাব দিয়েছিল আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর দেশ। সেই প্রস্তাব খারিজ করে এদিন ট্রাম্প বললেন, "ইরানের প্রস্তাব সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।" যুদ্ধ শেষ করার জন্য ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্রটি "সামরিকভাবে পরাজিত" হয়েছে। পাশাপাশি তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি— যা ছিল যুদ্ধ শুরুর অন্যতম কারণ, তাও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা গিয়েছে।

Advertisement

এদিকে প্রস্তাব খারিজ করায় আমেরিকাকে পালটা হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরান বলেছে, আমেরিকার যে কোনও নতুন হামলার পালটা জবাব দিতে তারা পিছপা হবে না। এছাড়াও হরমুজ প্রণালীতে বিদেশি যুদ্ধজাহাজের প্রবেশ বরদাস্ত করবে না বলেও জানিয়েছে তারা। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হবে? ট্রাম্প যদিও এখনও হামলার কথা জানাননি। কিন্তু পালটা কোনও প্রস্তাবও দেওয়া হয়নি ওয়াশিংটনের তরফে। ট্রুথ সোশাল পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, "আমি এইমাত্র ইরানের তথাকথিত 'প্রতিনিধিদের' প্রতিক্রিয়া (শান্তি প্রস্তাব) পড়েছি। এটা আমার একেবারেই পছন্দ হয়নি -- একেবারেই অগ্রহণযোগ্য!"

পরে সাংবাদিক শ্যারিল অ্যাটকিসনের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প আরও দাবি করেন, আমেরিকা ইরানের ইউরেনিয়াম মজুতের বিষয়টির উপর ‘ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে’। কেউ পরমাণু ঘাঁটির কাছে গেলে ওয়াশিংটন তা জানতে পারবে এবং ‘তাদের উড়িয়ে দেবে’। কার্যত হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। পালটা ইরানের তরফে বলা হয়েছে, যে কোনও মার্কিন হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে তারা। এইসঙ্গে হরমুজে মার্কিন 'দাদাগিরি' মানা হবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছে তারা। তেহরমানের বার্তায় বলা হয়েছে, আমেরিকা যদি মনে করে ইরান আত্মসমর্পণ করবে, তাহলে ভুল ভাবছে। এই অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘর্ষের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কিত বিশেষজ্ঞরা। কারণ গোটা পৃথিবীতে এই যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে। ভারতেও বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম।

প্রসঙ্গত, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সংকটের সিঁদুরে মেঘ ভারতের আকাশে। ভোটপর্ব মেটার পর জ্বালানি তেলের দামবৃদ্ধির জল্পনাও মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছে। এহেন পরিস্থিতির মাঝেই দেশবাসীর উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রবিবার হায়দরাবাদে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মোদি জানান, ‘জ্বালানি তেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংযত হন। ভারত তার প্রয়োজনের বেশিরভাগ জ্বালানিই বাইরে থেকে আমদানি করে।’

তেলেঙ্গানায় জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদি বলেন, ”এই মুহূর্তে পেট্রোল-ডিজেল, রান্নার গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের মিতব্যয়ী হওয়া প্রয়োজন। একান্ত প্রয়োজন হলে তবেই আমদানিকৃত পেট্রোলিয়াম পণ্য ব্যবহার করা উচিত দেশবাসীর। এর ফলে আমাদের শুধুমাত্র বৈদেশিক মুদ্রাই সাশ্রয় হবে না, যুদ্ধের জেরে দেশে তৈরি হওয়া নেতিবাচক প্রভাব কমাতেও সাহায্য করবে।” জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির জল্পনার মাঝেই প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement