সোনার সন্ধানে গুহায় ঢুকে মৃত্যুর মুখে। টানা ১০ দিন ধরে অভিযানের পর অবশেষে মৃত্যুকূপ থেকে উদ্ধার ৫ গ্রামবাসী। ভয়ংকর এই ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ লাওসে। এখনও ২ জন ওই গুহায় বন্দি বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে, ২০১৮ সালে থাইল্যান্ডের গুহায় আটকে পড়া ১২ পড়ুয়া ও তাদের ফুটবল কোচ উদ্ধারের দুঃসাহসিক অভিযানকে।
জানা যাচ্ছে, গত ১৯ ও ২০ মে সোনার খোঁজে ওই গুহায় প্রবেশ করেন ৭ জন গ্রামবাসী। তবে ভিতরে প্রবেশ করার পর ব্যাপক বৃষ্টির জেরে গুহার ভিতরে জল ভরে যায়। বেরোনের সমস্ত পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায়। গুহার কয়েকশো মিটার নিচে আটকে পড়েন গ্রামবাসীরা। এই দলের একজন সদস্য গুহামুখের কাছাকাছি থাকায় হড়পা বানের কবল থেকে বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। তিনিই গ্রামে গিয়ে খবর দেন। খবর যায় প্রশাসনের কাছে। এরপরই লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েন থেকে ১২০ কিমি উত্তরে অবস্থিত এই পার্বত্য গুহায় উদ্ধার অভিযানে নামে উদ্ধারকারী দল।
গত ১৯ ও ২০ মে সোনার খোঁজে ওই গুহায় প্রবেশ করেছিলেন ৭ জন গ্রামবাসী। তবে ভিতরে প্রবেশ করার পর ব্যাপক বৃষ্টির জেরে গুহার ভিতরে জল ভরে যায়। বেরোনের সমস্ত পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায়।
অত্যন্ত সরু মুখের এই গুহায় উদ্ধার অভিযান ছিল যথেষ্ট বিপজ্জনক। যার জেরে শুরুতে গুহার ভিতরের জল পাম্প করে বের করার পরিকল্পনা করা হয়। তা ব্যর্থ হলে শেষ পন্থা ছিল ভিতরে বন্দিদের স্কুবা ডাইভিং শেখানো এবং সাঁতরে বের করে আনা। তবে এই ঘটনা বিশ্বের নজরে পড়ায় গত শুক্রবার থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ ডুবুরিরা উদ্ধারকাজে সহায়তা করতে লাওসে পৌঁছান। শনিবার তাঁদের চেষ্টায় গুহার ভিতর থেকে ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এখনও একজন গুহায় আটকে রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। জীবিত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করতে শুরু হয়েছে তোড়জোড়।
এই শ্বাসরোধকারী উদ্ধার অভিযানের এক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশাল মিডিয়ায়। যেখানে দেখা যাচ্ছে, গুহা থেকে চারজনকে উদ্ধারের পর সেখানে উপস্থিত লোকজন আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েছেন। উদ্ধারের পর একজনকে অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর মুখে ছিল বেঁচে ফেরার আনন্দ। অন্য তিনজন আবেগঘনভাবে উদ্ধারকর্মীদের জড়িয়ে ধরেন।
