সংঘর্ষবিরতি চলছে ঠিকই, তবে হামলা পালটা হামলায় তা কার্যত শেষের দোরগোড়ায়। আলোচনা প্রক্রিয়ার মাঝেই এবার মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান। শনিবার এই তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। জানা যাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কুয়েতে আমেরিকার আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলায় একাধিক মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ধ্বংস হয়েছে আমেরিকার অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন।
ইরানের ইসলামিক রিভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) তরফে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি ইরানের দক্ষিনাঞ্চলে বিশেষ করে বন্দর আব্বাস এলাকায় হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা। তারই জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকার তরফেও এই হামলার কথা স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ফতেহ-১১০ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল ইরান। তবে কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেই ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই ধ্বংস করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির ধ্বংসাবশেষ সেনাঘাঁটিতে আছড়ে পড়েছিল। তাতেই কয়েকজন সেনা আহত হন। এবং দুটি ড্রোন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি ড্রোন পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় কুয়েতে আমেরিকার আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলায় একাধিক মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
জানা যাচ্ছে, যে অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস হয়েছে সেগুলির একএক্টির দাম ৩০ মিলিয়ন ডলার। এই ড্রোন মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। নজরদারির পাশাপাশি গোপন হামলার জন্য ব্যবহৃত হয় ড্রোনগুলি। সেগুলি ধ্বংস হওয়া মার্কিন সেনার কাছে বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। তবে নতুন করে এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে কয়েকদিন আগেও ইরান ও আমেরিকার পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আশার আলো দেখা গেলেও, আপাতত তা বিশবাঁও জলে। শুক্রবার ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে বৈঠক করলেও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালী খোলার বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। ইরানের তরফেও জানানো হয়েছে, চুক্তি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এই অবস্থায় মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা উত্তেজনার পারদ আরও বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।
