সপ্তাহ ডিঙিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অব্যাহত। যুদ্ধসংকটের প্রভাব পড়ছে গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় ঊর্ধ্বগামী অরপরিশোধিত তেলের দাম। এই অবস্থায় আর কত দিন চলবে ইরান যুদ্ধ (Iran War)? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বললেন, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এইসঙ্গে ট্রাম্পের দাবি, নেতানিয়াহু এবং তিনি না থাকলে ইজরায়েলকে ধ্বংস করে দিত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান।
সম্প্রতি ‘টাইমস অফ ইজরায়েল’-কে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ট্রাম্প। সেখানে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, কবে ইরান যুদ্ধ শেষ হতে পারে? এই বিষয়ে তিনি একক সিদ্ধান্ত নেবেন নাকি নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলে ঠিক করবেন? উত্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমি মনে করি, এটি কিছুটা হলেও যৌথ সিদ্ধান্ত হবে। আমাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেব। তবে সব দিক বিবেচনা করে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” এইসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, "আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। এমন একটি দেশকে ধ্বংস করেছি যারা ইজরায়েলকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল।"
এদিকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের ক্রমাগত হামলা ও হুঁশিয়ারির মধ্যেই ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হলেন আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের পুত্র সইয়েদ মোজতবা হোসেইনি খামেনেই। এই সিদ্ধান্তে তেহরান বুঝিয়ে দিল কট্টরপন্থার নীতি ও আদর্শ থেকে সরছে না তারা। নিয়ম মেনেই ইরানের ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে মোজতবাকে বেছে নিয়েছে। এই পদ মোজতবাকে সমগ্র দেশের শাসন পরিচালনার অধিকার দিল। দেশের যাবতীয় বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে ধরা হবে। ঠিক যেমনটা পিতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর ক্ষেত্রে ছিল।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রিয়ারি ইরানের মাটিতে যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে তেহরান-সহ ইরানের একাধিক অঞ্চল। হামলায় মৃত্যু হয়েছে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর। জবাবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকার একাধিক সেনাঘাঁটি ও ইজরায়েলে হামলা চালাচ্ছে ইরান। কুয়েত, বাহরিন, ওমান, জর্ডন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুরস্কের উপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। যুদ্ধে ইরানে মৃতের সংখ্যা দু'হাজার ছাড়িয়েছে। রাশিয়া, চিন, স্পেন, ভারত-সহ একাধিক দেশ শান্তিপ্রস্তাব দিলেও কোনও পক্ষই যুদ্ধ থেকে সরতে রাজি নয়।
