আন্দোলনকারীদের হত্যা করা বন্ধ করেছে ইরানের আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের সরকার। বুধবার এমনটাই ঘোষণা করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেনি তেহরান। কিন্তু ট্রাম্পের এই দাবির পরই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি মার্কিন চাপেই পিছু হটল ইরান?
ইরানে মূল্যবৃদ্ধি, স্বাস্থ্য-শিক্ষা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ব্যর্থতা, কট্টরপন্থী ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক বিদ্রোহ শুরু হয়েছে। অভিযোগ, বিক্ষোভ রুখতে হিংসাত্মক দমন-পীড়ন চালাচ্ছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এই পরিস্থিতিতে ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মহম্মদ মোবাহেদি আজাদ হুঁশিয়ারি দেন, কেউ বিক্ষোভে শামিল হলেই তাঁকে ‘ঈশ্বরের শত্রু’ তকমা দিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। এরপরই তেহরানকে পালটা হুমকি দেন ট্রাম্প। বলেন, “ইরানে যদি আন্দোলকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, তাহলে আমেরিকা কড়া পদক্ষেপ করতে পিছপা হবে না। ভয়ংকর কিছু ঘটবে।”
বুধবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঘোষণা করেন, "আমার কাছে খবর এসেছে, আন্দোলনকারীদের হত্যা করা বন্ধ করেছে ইরান। বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছিল, তা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। কোনও আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হবে না।" তবে ইরান সরকার তাঁকে সরাসরি বিষয়টি জানিয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
প্রসঙ্গত, সরকার-বিরোধী বিক্ষোভে অংশগ্রহণ এবং খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার ‘অপরাধে’ গত ৮ জানিয়ারি ২৬ বছর বয়সি ইরফান সোলতানিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারপরই তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কথা ঘোষণা করে খামেনেই সরকার। বুধবার তা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এদিন রাতে নরওয়ের একটি মানবাধিকার সংগঠন জানায়, ইরান সরকার ইরফানের ফাঁসির সাজা স্থগিত করেছে।
