গ্রিনল্যান্ড দখলে নাছোড় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপটিকে সমর্থনের জন্য ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের উপর তিনি নিক্ষেপ করেছেন শুল্কবাণ। কিন্তু তাতেও বিশেষ কাজ হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ‘রুশ জুজু’ দেখিয়ে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নয়া দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর কথায়, “আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো রুশ আগ্রাসনের ঝুঁকি নিয়ে ডেনমার্ককে বহু বছর ধরে সতর্ক করে এসেছে। কিন্তু তা কানে তোলেনি ডেনমার্ক।” এরপরই তিনি হুঁশিয়ারি দেন, 'এবার সময় এসেছে...' কিন্তু এর অর্থ কী? কীসের সময় এসেছে? তা স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প। তাহলে কি শীঘ্রই গ্রিনল্যান্ডে সামরিক অভিযান চালাবে মার্কিন ফৌজ? বাড়ছে জল্পনা।
সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশালে লেখেন, ‘গ্রিনল্যান্ডে রুশ আগ্রাসনের যে ঝুঁকি রয়েছে, তা নিয়ে ডেনমার্ককে বিগত ২০ বছর ধরে সতর্ক করে আসছে ন্যাটো। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই সতর্কবাণী কানে তোলেনি ডেনমার্ক। এবার সময় এসেছে এবং তা সম্পন্ন হয়েই থাকবে।’ ট্রাম্পের এহেন বার্তার পরই আশঙ্কার মেঘ তৈরি হয়েছে কূটনৈতিক মহলে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, যেভাবেই হোক গ্রিনল্যান্ড যে ট্রাম্প দখল করেই ছাড়বেন, সেই কথাই ফের একবার বুঝিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বিরুদ্ধাচারণ করায় কয়েকদিন আগেই ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ড এবং ফিনল্যান্ডের পণ্যের উপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। এই শুল্ক নিয়ম কার্যকর হবে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে। কিন্তু তাতে মচকায়নি ইউরোপের দেশগুলি। রবিবার এক বার্তায় তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ড এবং ডেনমার্কের মানুষের পাশে রয়েছে তারা। এই পরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ফের সুর চড়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
উল্লেখ্য, প্রয়োজনে সামরিক অভিযান চালিয়ে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ করা হবে বলে হুমকি দিয়েছে আমেরিকা। ওয়াশিংটনের এই মন্তব্যের সমালোচনাও করেছে ইউরোপের একাধিক দেশ। তাদের মধ্যে অন্যতম জার্মানি। বুধবার সে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ডেনমার্কের আমন্ত্রণে ১৩ জন সেনা আধিকারিককে গ্রিনল্যান্ডে পাঠাচ্ছে তারা। সেই পথে হেঁটে বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপে সেনা পাঠিয়েছে সুইডেন, ফ্রান্স, নরওয়ে। শুধু তা-ই নয়, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকে কনস্যুলেট খোলার কথাও জানিয়েছে কানাডা এবং ফান্স।
