মাচাদো নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কার মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দিলেও অভিমান থামছে না ডোনাল্ড ট্রাম্পের। নোবেল না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে এবার নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গর স্টোরকে চিঠি লিখলেন তিনি। চিঠিতে তাঁর সাফ বার্তা, যেহেতু তাঁকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়নি, সেহেতু তিনি বিশ্ব শান্তির বিষয়ে ভাবার বিন্দুমাত্র প্রয়োজন অনুভব করেন না।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিবিএস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, স্টোরকে লেখা চিঠিতে নিজের নোবেল না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শুধু তাই নয়, নোবেল কমিটিতে নরওয়ে সরকারের ভূমিকার বিষয়টিও মার্কিন বিদেশনীতিতে যুক্ত করার বার্তা দেন। চিঠিতে লেখেন, '৮টির বেশি যুদ্ধ থামানোর পরও আপনার দেশ আমাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে এখন থেকে শান্তির বিষয়ে চিন্তা করার কোনও প্রয়োজন অনুভব করি না আমি। অবশ্য শান্তি শান্তির মতোই থাকবে, কিন্তু এখন থেকে আমি শুধু আমেরিকার জন্য কোনটা ভালো ও সঠিক সেদিকেই মননিবেশ করব।'
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে গিয়ে নিজের নোবেল পুরস্কারটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন মাচাদো। সেই নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে চলছে তুমুল জল্পনা। যদিও এই ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে রবিবার এক বিবৃতি দেয় নোবেল কমিটি। যেখানে বলা হয়, ‘নোবেল পুরস্কার প্রতীকীভাবেও অন্য কারোর হাতে তুলে দেওয়া যায় না। অ্যালফ্রেড নোবেলের ইচ্ছা এবং শর্তাবলিকে মর্যাদা দেওয়া এই কমিটির কর্তব্য। সেই শর্তে স্পষ্ট বলা হয়েছে, মানবজাতির স্বার্থে যাঁরা অসামান্য অবদান রেখেছেন, কেবল তাঁদের এই পুরস্কার দেওয়া হবে। নোবেল পুরস্কার দেওয়ার ক্ষমতাও স্পষ্টভাবে শর্তাবলিতে লেখা রয়েছে। নোবেল পুরস্কার দেওয়ার যোগ্যতা কাদের রয়েছে, সেটাও শর্তাবলির অঙ্গ।’ এহেন পরিস্থিতির মাঝেই নোবেলে অভিমানী ট্রাম্পের চিঠি এবার উঠে এল বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে।
তবে শুধু নোবেল নয়, ওই চিঠিতে গ্রিনল্যান্ড নিয়েও বার্তা দেন ট্রাম্প। গ্রিনল্যান্ডের উপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি লেখেন, ডেনমার্ক বা কেউই গ্রিনল্যান্ডকে চিন, রাশিয়ার মতো বৃহৎ শক্তির হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে না। ন্যাটোকেও আমেরিকার সঙ্গ দেওয়ার আবেদন জানিয়ে ট্রাম্প জানান, গ্রিনল্যান্ডের উপর আমেরিকার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না আসা পর্যন্ত বিশ্ব নিরাপদ থাকবে না।
