উত্তর কোরিয়া দেশটা যেন বেলজারের তলায় চাপা পড়া এক আশ্চর্য দেশ। যাকে নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। আর সেই দেশের শাসক কিম জং উনকে নিয়েও সারা পৃথিবীর চরম আগ্রহ। গোটা দেশটা চলে তাঁরই অঙ্গুলীহেলনে। এবার তাঁরই স্বদলীয় এক ব্যক্তি দেশ ছেড়ে পালাতে সক্ষম হয়ে বেরিয়ে এসেই মুখ খুলেছেন। চার্ল রিউ নামের সেই ব্যক্তির দাবি, উত্তর কোরিয়ার স্কুলে তাঁকে শেখানো হয়েছিল ১+১=১!
ঠিক কী দাবি করেছেন তিনি? রিউ জানাচ্ছেন, তাঁদের দেশে স্কুলে ৬টি বিষয়ে পড়ানো হয়। এর মধ্যে দু'টি বিষয় উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের ইতিহাস। কিম ২-সাং ও তাঁর পুত্র কিম জং-২। দুই নেতাকে নিয়ে দুই ভিন্ন সাবজেক্ট। পাশাপাশি অঙ্ক, কলা, কারুকর্ম ও অন্যান্য মৌলিক পাঠও দেওয়া হয় পড়ুয়াদের। কিন্তু যাই শেখানো হোক, সর্বত্রই থাকে দেশপ্রেমের মিশ্রণ। আর সেই কারণেই অঙ্ক ক্লাসে শেখানো হয় এক আর এক যোগ করলে একই হয়! আসলে এটা রূপক। কিন্তু এভাবেই শাসকের একমেবদ্বিতীয়ম সত্তাকে শেখানো হয় পড়ুয়াদের।
'দেশদ্রোহী' চার্ল রিউ জানিয়েছেন, কারাবন্দি অবস্থায় তাঁকে কী ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। তাঁর দাবি, দিনের পর দিন খেতেই দেওয়া হত না তাঁকে। খিদের জ্বালায় দেওয়ার ফাঁক থেকে সদ্যোজাত ইঁদুর ধরেও খেয়েছেন বলেই জানাচ্ছেন তিনি। এমনই সব অখাদ্য-কুখাদ্য খেয়েও ক্ষুণ্ণিবৃত্তি মেটাতে হয়েছে বলেই দাবি রিউয়ের। তবে একবার দেশ থেকে বেরিয়ে অন্য দেশে আশ্রয় পাওয়ার পর থেকেই তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করতে শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন ওই ব্যক্তি।
কিমরাজার দেশে অঙ্ক ক্লাসে শেখানো হয় এক আর এক যোগ করলে একই হয়! আসলে এটা রূপক। কিন্তু এভাবেই শাসকের একমেবদ্বিতীয়ম সত্তাকে শেখানো হয় পড়ুয়াদের।
উল্লেখ্য, নিজের কাকাকেও রেয়াত করেননি একনায়ক শাসক। তাঁকে সম্পূর্ণ নগ্ন করে ১২০টি ক্ষুধার্ত কুকুর দিয়ে খাইয়েছিলেন কিম। 'বিশ্বাসঘাতকতা'র শাস্তি কতটা ভয়ংকর সেটাই বাকিদের বুঝিয়ে দিতে এমন অবিশ্বাস্য হিংস্রতাকে অবলম্বন করেন তিনি। চার্ল রিউ যা দাবি করছেন, তা আরও একবার উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ 'নিষ্ঠুর' বাতাবরণকেই তুলে ধরল।
